ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

ফুটবল

হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল আবাহনী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০১৮
হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল আবাহনী আবাহনীর জয়। ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে: সানডে চিজুবার জোড়া গোলে বসুন্ধরা কিংসকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফেডারেশন কাপ ফুটবলে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল আবাহনী লিমিটেড। চ্যাম্পিয়নদের হয়ে অপর গোলটি করেন দলের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেনস বেলপোর্ট। আর রানার আপ বসুন্ধরা কিংসের একমাত্র গোলদাতা অধিনায়ক ডেনিয়েল কলিনড্রেস।

এর আগে শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) প্রথমার্ধের শুরু থেকেই বেশ গোছালো ও পরিচ্ছন্ন ফুটবল উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। নবাগত হলেও দলটির ডিফেন্স, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের দাপট বারবারই আবাহনীকে কাঁপিয়ে দেয়।

ছোট ছোট পাসে চিত্তাকর্ষক ‍ফুটবল বারবারই দর্শকদের হাততালির উপলক্ষ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ছিল অগোছালো ও ছন্নছাড়া। যেমন রক্ষণভাগ তেমনি আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধের পুরো ৪৫ মিনিটে কিংস সীমনায় একাধিক আক্রমণ রচনা করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্খিত গোলের দেখা মেলেনি। আর রক্ষণভাগের অসাবধনতাও ছিলো নিদারুণ হতাশার।

ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

ম্যাচের বয়স তখন ২২ মিনিট। ডিফেন্স ভেদ করে আবাহনীর ডি বক্সের ভেতর ঢুকে সরাসরি পোস্টে শট নেন কিংসের ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা। আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম প্রথম চেষ্টায় তা ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে জালে বল পাঠান কোস্টারিকান তারকা ডেনিয়েল কলিনড্রেস। ১-০ তে লিড পায় বায়েজিদ আহমেদ জুবায়েরের শিষ্যরা।

৫ মিনিট পরেই সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করে আবাহনী। ডান দিক থেকে সানডে চিজুবার কর্নার কিক থেকে আসা বল লাফিয়ে উঠে দ্রুতগতির হেডে প্রায় জালে বল ঠেলে দিয়েছিলেন বেলফোর্ট। কিন্ত সেখানে বাধ সাধেন কিংস গোলরক্ষক জিকো।

ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

এখানেই শেষ নয়, প্রথমার্ধ শেষের আগে আরও দু'টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে দলটি। ৩৫ মিনিটে ডি-বক্সের জটলায় বল পেয়ে হালকা ক্রস দেন আবাহনীর বেলফোর্ট, দারুণ ক্রসটিকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হন ফরোয়ার্ড সানডে। ৩৯ মিনিটে কিংসের গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোলমুখ খুলতে পারেননি আবাহনীর বেলফোর্ট। সেই সুযোগে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বসুন্ধরা কিংস।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই সমতায় ফেরে আবাহনী। ৫০ মিনিটে পোস্টের সামনে রায়হানের থ্রু থেকে আসা বল পায়ের আলতো ছোঁয়ায় গোলরক্ষক জিকোকে ফাঁকি দেন সানডে। সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা আবাহনী এগিয়ে যেতে আক্রমণের ধার বাড়ায়। একের পর এক তোপ চালিয়ে পর্যুদস্ত করে তোলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। কিন্তু ভাঙতে পারেনি একবারও। কখনো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা আবার  কখনো গোলরক্ষক।
ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ
একই চিত্র বিরাজ করছিল কিংস শিবিরেও। কেননা সমতায় না ফেরাটা ঠিক যেন হেভিওয়েট দলটির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যাচ্ছিল না। তাই আবাহনীর রক্ষণভাগ ভেদ করার প্রতিযোগিতায় তারাও পিছিয়ে ছিলেন না। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত এমনই উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ দেখেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রায় ১০ হাজার দর্শক।   

৭৮ মিনিটে হঠাৎই দৃশ্যপটে আবাহনী খেলোয়াড়দের উল্লাস। কারণ, সোহেল রানার কাটব্যাক থেকে দ্বিতীয়বার জালে বল ঠেলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ২-১ এগিয়ে দেন দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজুবা। মৌসুমে এটি তার ষষ্ঠ গোল।

আবাহনীর তৃতীয় গোলটি আসে এর ঠিক দু্ই মিনিট পরেই। ওয়ালী ফয়সালের কর্নার থেকে আসা বল দক্ষ হেডে পোস্টে ঠেলে স্কোরলাইন ৩-১ এ নিয়ে বসুন্ধরা কিংসকে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন দলের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেনস বেলফোর্ট।

ম্যাচের বাকি সময় একই ফলাফল অক্ষুণ্ণ থাকলে ফেডারেশন কাপে টানা তৃতীয় ও রেকর্ড একাদশ শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৩, ২০১৮ 
এইচএল/এমকেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।