ঢাকা, সোমবার, ২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৫

কৃষি

আগাম ফুলকপি চাষে লাভবান রাজবাড়ীর কৃষকেরা

কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ১০, ২০২৩
আগাম ফুলকপি চাষে লাভবান রাজবাড়ীর কৃষকেরা

রাজবাড়ী: পদ্মা বিধৌত রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এই উপজেলায় ১৬ হাজার ৩৭২ হেক্টর আবাদি জমিতে ধান, পাট, গমসহ নানাবিধ শাক-সবজি চাষাবাদ করেন কৃষকেরা।

বর্তমানে শীতকালীন সবজি চাষ করছেন স্থানীয় চাষিরা। এরমধ্যে আইসবল জাতের আগাম ফুলকপি চাষাবাদ করে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বালিয়াকান্দি উপজেলায় সাত ইউনিয়নের মোট ১৬ হাজার ৩৭২ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ৮৪ হেক্টর জমিতে হয়েছে ফুলকপির চাষ। প্রতিটি ফুলকপি গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের হয়েছে। এতে ৩৩ শতাংশ জমিতে দুই হাজার ৮০০ কেজি বা হেক্টর প্রতি ২৮ টন ফলন উৎপাদন হয়েছে। এতে ৮৪ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৭৬৪ টন ফুলকপি উৎপাদন হয়েছে। প্রথম দিকে কৃষকেরা স্থানীয় পর্যায়ে ১২০ টাকা কেজি দরে আগাম ফুলকপি বিক্রয় করেছেন। সেই হিসেবে এক হাজার ৭৬৪ টন কপির বিক্রয় মূল্য ১৭ কেটি ৬৪ লাখ টাকা।

সরেজমিনে বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বকশিয়াবাড়ি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করছেন কৃষকেরা। সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে আছে সাদা ধবধবে আইসবল জাতের ফুলকপি।

কৃষক আ. রশিদ চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানে ২২ শতাংশে এক পাকি জমি। আমি সাত পাকি জমিতে প্রথম চালানে বৈশাখ মাসে আগাম ফুলকপি চাষ করি। রোপণের ৬০ দিন পরে ফুলকপি বাজারে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। দ্বিতীয় চালানে ভাদ্র মাসে ফুলকপি চাষ করি। সেই কপি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। চলতি মৌসুমে ২ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছি। এতে অনেক লাভ হয়েছিল।

আরেক চাষি ফারুক হোসেন বলেন, আমি পাঁচ পাকি জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছি। জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, সেচ, আগাছা নিধন, জৈব সার প্রয়োগ, ফসল উঠানো ও বিক্রি করতে নেওয়াসহ সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। এই পর্যন্ত আমি দেড় লাখ টাকার মতো ফুলকপি বিক্রি করেছি। অন্যান্য শীতকালীন সবজি থেকে আগাম ফুলকপি চাষাবাদ করে অনেক লাভ হয়েছে।

ফুলকপি চাষি মো. লোকমান বলেন, আমি দুই পাকি জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপি চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছি। এই এলাকার চাষিরা আগাম ফুলকপির চাষে লাভবান। দিন দিন আমাদের এলাকায় ফুলকপির চাষ বাড়ছে।

নবাবপুর ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি অফিসার সুজিত দাস বলেন, এই এলাকার আগাম, মধ্য ও নামি জাতের ফুলকপির মান ও স্বাদ ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের জেলা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুরসহ ব্যাপারীদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে চাষিরা অনেক খুশি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়মিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিদের নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও সুপরামর্শ দিয়ে আসছি। অন্যান্য সময়ের চেয়ে আগাম চাষাবাদে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকেরা অধিক লাভবান। ভবিষ্যতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ও ফুলকপি চাষাবাদ বাড়বে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী জেলার মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা। এই উপজেলায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল, শাক সবজি চাষাবাদে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ, দিক নির্দেশনা, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে এসব এলাকায় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মোট ১৬ হাজার ৩৭২ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ৮৪ হেক্টর জমিতে হয়েছে ফুলকপির চাষ। প্রতিটি ফুলকপি গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের হয়েছে। এতে ৩৩ শতাংশ জমিতে দুই হাজার ৮০০ কেজি বা হেক্টর প্রতি ২৮ টন ফলন উৎপাদিত হয়েছে। যা ৮৪ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৭৬৪ টন ফুলকপি উৎপাদন হয়েছে। প্রথম দিকে কৃষকেরা স্থানীয় পর্যায়ে ১২০ টাকা কেজি দরে আগাম ফুলকপি বিক্রয় করেছেন। সেই হিসেবে এক হাজার ৭৬৪ টন কপির বিক্রয় মূল্য ১৭ কেটি ৬৪ লাখ টাকা। দিন দিন আগাম সবজি চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ১০, ২০২৩
এসএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।