ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

ঈদে ফেনীর মাছ-মাংসের বাজার চড়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫১ ঘণ্টা, এপ্রিল ৯, ২০২৪
ঈদে ফেনীর মাছ-মাংসের বাজার চড়া

ফেনী: রমজান মাস প্রায় শেষ। ঘনিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের এদিনকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। যার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের বাজার হঠাৎ বাড়তির দিকে। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।  

ঈদের আগে বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম গত কয়েকদিনের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বাড়ায় খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়েছেন।  

গরুর মাংসও কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বেড়েছে খাসির মাংসও। হাড়সহ ৭০০ টাকার গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংস হাজারের বেশি। চাষ, দেশি ও সাগরের মাছ কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।  

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ফেনী শহরের বড় বাজার, হকার্স মার্কেট বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২৪৫ থেকে ২৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিনে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আর প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।  

বড় বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবদুল খালেক বলেন, ঈদ উপলক্ষে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে খামারিরা দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন। যার ফলে মুরগির দাম বেড়েছে।  

কবির আহাম্মদ নামে আরেক মুরগি বিক্রেতা বলেন, দুয়েকদিন ধরে প্রত্যেকটি মুরগি বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ছোট-বড় মানভেদে ২৩৫ থেকে ২৪০ টাকায় আমরা কিনছি।  

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে হকার্স মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদ উপলক্ষে মানুষজন সবাই ফেনীতে আসছে। এ কারণে চাহিদাও বাড়ছে। সেজন্য খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।  

মুরগি চাহিদার তুলনায় কম কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম থাকলে বাজারে মুরগি থাকত না। পর্যাপ্ত মুরগি আছে। কেন দাম বাড়ছে তারাই ভালো জানেন।

রাতারাতি মুরগির দাম এমন লাফ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলেন, এ যে রাতারাতি দাম বাড়ায়। এগুলো তো পূর্ব পরিকল্পিত। না হয় এক লাফে ২০ টাকা বাড়ে কীভাবে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি, কেউবা চাচ্ছেন ২৬০ টাকা। অথচ দুয়েকদিন আগেও দাম ছিল ২২০ টাকা। সোনালি মুরগির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা।  

মুরগি কিনতে আসা ফাতেমা আক্তার নামে একজন বলেন, ব্রয়লার মুরগিও আড়াইশ’ টাকা দিয়ে কিনে খেতে হবে তা ভাবিনি। সামনে ঈদ তাই মানুষ তো কিনতে বাধ্য। যার কারণে যে যেভাবে পারছেন দাম বসিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

জেলা পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরান হাসান বলেন, ঈদ এলে চাহিদা বাড়ে। সেজন্য বাজারে দাম বেড়েছে। তবে খামারিদের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক ঈদে, শবে বরাতে কিছুটা দাম বাড়তি নেয় তারা। রোজাতে ডিমের চাহিদা নেই, তাই দামও কম। রোজা গেলে ডিমের চাহিদা বাড়বে, দামও কিছুটা বাড়বে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, ব্রয়লার মুরগির বর্তমান স্বাভাবিক মূল্য ২০০ থেকে ২১০ টাকা। কারণ সবকিছুর দাম বাড়তি। মানুষ এটাতে কিনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে ঈদ এলে চাহিদা মোতাবেক কিছুটা দাম বাড়ানো হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

এদিকে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, মাংসের বাজারের সিন্ডিকেট ধ্বংস করার জন্য ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর অর্থায়নে পৌরসভার উদ্যোগে শহরের পিটিআই মাঠে গরু জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৯, ২০২৪
এসএইচডি/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।