ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

৫০ লাখ ডলারে ‘মার্কিন নাগরিকত্ব’ বিক্রি করতে চান ট্রাম্প  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
৫০ লাখ ডলারে ‘মার্কিন নাগরিকত্ব’ বিক্রি করতে চান ট্রাম্প  

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চালু করা হবে ‘গোল্ড কার্ড’।

আর এই কার্ড পেতে ব্যক্তিকে খরচ করতে হবে ৫০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি)। এই অর্থ ব্যয়েই মার্কিন নাগরিকত্ব মিলবে।  

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেন, আমরা একটি গোল্ড কার্ড বিক্রি করতে যাচ্ছি। কার্ডের মূল্য প্রায় ৫০ লাখ ডলার নির্ধারণ করছি। এটি গ্রিন কার্ডের সুবিধা দেবে এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ খুলে দেবে। ধনী ব্যক্তিরা আমাদের দেশে এসে এই কার্ড কিনতে পারবেন। (নাগরিক সুবিধা পেয়ে) তারা এখানে আরো ধনী হবেন, সফল হবেন এবং কর দেবেন। এর মাধ্যমে আমাদের অনেক নাগরিকদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ’  

গোল্ড কার্ড বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।  কমপক্ষে ১০ লাখ গোল্ড কার্ড বিক্রি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প।

কবে থেকে গোল্ড কার্ড চালু হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই নতুন এই প্রক্রিয়া চালু হয়ে যাবে। তবে কীভাবে ‘গোল্ড কার্ড’ মিলবে বা এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বর্তমানে ‘ইবি-৫ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে অভিবাসী বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেয়ে থাকেন। ‘ইবি-৫’ হলো এক ধরনের অভিবাসী ভিসা যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়। এটি মূলত গ্রিন কার্ডের একটি সংস্করণ, যা পেতে হলে একজন অভিবাসীকে মার্কিন কোম্পানিতে কমপক্ষে ৮ অথবা সাড়ে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হয়।  

আর ‘ইবি-৫’ -এর পরিবর্তেই এবার আসছে গোল্ড কার্ড। সে অর্থে ‘গোল্ড কার্ড’ চালু হলে ‘ইবি-৫ প্রোগ্রাম’ আর থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনাকে ‘দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত’ বলে জোর দিয়ে বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনা নিয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নতুন গোল্ড কার্ড চালু হলে  ‘ইবি-৫ প্রোগ্রাম’-এর ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত অনেকের।  

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন স্টাডিজের পরিচালক ডেভিড বিয়ার  ‘গোল্ড কার্ড’ -কে অদ্ভুত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একটি দেশ আপনাকে স্থায়ী বাসস্থান কেনার প্রস্তাব ‍দিচ্ছে, এটা কোনো দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত বা ধারণা নয়।

তবে ট্রাম্পের সুরেই সুর মিলিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটকিন। তিনি ‘ইবি-৫ প্রোগ্রাম’কে হাস্যকর পদ্ধতি বলে অভিহিত করেছেন।

হাওয়ার্ড লুটকিন বলেন, ইবি-৫ প্রোগ্রাম ছিল সম্পূর্ণ অর্থহীন ও জালিয়াতিতে ভরপুর পদ্ধতি। এটি ছিল কম দামে গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি উপায় মাত্র। তাই এই হাস্যকর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে চালু করা হবে গোল্ড কার্ড। নতুন এই উদ্যোগ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক ঘাটতি কমাবে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

বাংলাদেশ সময়: ১১০৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এসএস/এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।