ঢাকা, শনিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

মার্কিন উচ্চ শুল্কারোপ ব্রাজিলের জন্য ‘সম্ভাবনার-স্বস্তির’ হতে পারে

আন্তজার্তিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩০৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৫
মার্কিন উচ্চ শুল্কারোপ ব্রাজিলের জন্য ‘সম্ভাবনার-স্বস্তির’ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ। নেতিবাচক এই প্রতিক্রিয়ায় তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তর দেশ ব্রাজিলও।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উচ্চ হারে শুল্কারোপ শাপে বর হতে পারে ব্রাজিলের জন্য। তুলনামূলকভাবে সুবিধা পেতে পারে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।

ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এতেই অনেকটা চটে যায় ব্রাসিলিয়া। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার দিনই বুধবার কংগ্রেসে একটি আইন অনুমোদন করে ব্রাজিল, যা ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পর পর বুধবার দেশে দেশে শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হলেও ব্রাজিলের স্থানীয় পুঁজিবাজারগুলো ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মানও মার্কিন ডলারের বিপরীতে হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে সর্বোচ্চ। নতুন করে শুল্কারোপের আগে ১ ডলার সমান ছিল ৫ দশমিক ৬০ ব্রাজিলীয় রিয়াল। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের এ অঙ্ক এখন এর নিচে নেমেছে।

ইতোমধ্যে, ব্রাজিলের শেয়ারবাজারের  প্রধান সূচক দশমিক ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, তুলনামূলক কম শুল্ক বোঝা চাপানের কারণে বড় বাণিজ্য ঝুঁকিকে পড়ছে না ব্রাজিল।  

এক্সপির গবেষণা দল বলেছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ‘পরিপূর্ণভাবে খারাপ, কিন্তু ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক বা সম্ভাবনার’। কারণ বাণিজ্যযুদ্ধ পণ্যের এই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তির দেশের জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে এবং লাতিন আমেরিকাজুড়ে অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগকে আরও গতিশীল করে দেবে।

এক্সপি বলছে, ‘২০১৮-২০২০ সালে চীনা বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও চীনের পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাজিলে স্থানান্তরিত হয়, যার ফলে সয়াবিন এবং ভুট্টার মতো পণ্যগুলো ব্রাজিলমুখী হয়।  

বিটিজি প্যাকচুয়ালের অংশীদার এবং অর্থনীতিবিদ ইয়ানা ফেরো বলেন, ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক আরও কঠোর শাস্তির আশঙ্কাকারী দেশগুলোর জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, অন্যান্য দেশের ওপর শুল্কের বোঝা অনেকটা বেড়েছে। এতে ব্রাজিলের নির্দিষ্ট কিছু খাত তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে। ’

সাও পাওলোর  আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভার্দে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা লুইস স্টুহলবার্গার বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাজিলের ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্কের অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে শুল্কের বোঝা চাপলেও ব্রাজিল ‘উচ্চ সুবিধা’ পেয়েছে।

বিশ্বে সয়াবিন, সুতা, মাংস ও মুরগির সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ব্রাজিল। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্য সম্পর্কে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্যে ২০০৮ সাল থেকেই উদ্বৃত্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর এটি ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। ওই বছর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আট হাজার কোটি ডলারের বেশি।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলাদেশ সময়: ০২১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।