ঢাকা: অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহার ও ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণাসহ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে এসব দাবি জানান তারা।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বা জা স বিল নম্বর ১২/২০২৩ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিলে অত্যাবশ্যক পরিষেবা বলতে ১৮টি সেক্টরকে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সব সেক্টরের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে, তাদের ওপর কাজের চাপ, নিপীড়ন ও বঞ্চনা আরও বাড়বে। কিন্তু প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ বা অধিকার থাকবে না। আমাদের আশঙ্কা এ অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল আইনে পরিণত হলে তা শ্রম আইনকে অকার্যকর করে ফেলবে। শ্রম আইনে ধর্মঘটের যতটুকু আইন সংগত অধিকার আছে সেটাও বাস্তবে কেড়ে নেওয়া হবে।
তারা আরও বলেন, বাধ্য না হলে শ্রমিকরা সাধারণত ধর্মঘট করে না। ধর্মঘট করতে চাইলে শ্রম আইনের বিধান মেনে করতে হয়। বেআইনি ধর্মঘটের বিরুদ্ধে শ্রম আইনেই শান্তির ব্যবস্থা আছে। তা সত্ত্বেও অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল উত্থাপন সচেতন শ্রমিকদের কাছে বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে। তাছাড়া যে সময়ে শ্রমিকরা স্কপের নেতৃত্বে ২০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণাসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরে তা আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেষ্ট, সেই সময়ে দেশি-বিদেশি শ্রম শোষণকারী মালিক এবং কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে আর শ্রমিকদের প্রতিবাদের শেষ হাতিয়ার কেড়ে নিতে অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন নামে এ অগণতান্ত্রিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
স্কপের ৯ দফা দাবি হলো-
১. শ্রম আইনে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা ও শ্রম আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে স্কপের সংশোধনী গ্রহণ করা।
২. শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার দেওয়া এবং দাবি উত্থাপন ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা দূর করা।
৩. বাজার দর, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা, শিল্পের প্রকৃত সক্ষমতা ও মাথাপিছু জাতীয় আয় বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
৪. বন্ধ ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল, চিনিকলসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু করা।
৫. গ্রাম ও শহরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রয়োজন অনুসারে রেশন ও আবাসনের ব্যবস্থা করা। সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা।
৬.অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের তালিকা প্রণয়নের জটিলতা নিরসন করা। আউট সোর্সিংয়ের নামে শ্রমিকের চাকরি, মজুরি ও সুরক্ষা হরণ করে নির্বিচারে শোষণ বন্ধ করতে হবে।
৭. নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যু ও গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণ চলে গেলে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া। আহতদের আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করা। অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের কর্যক্রম পরিচালনায় শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৯. প্রবাসে গমনেচ্ছুদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে।
স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শাহ মো. জাফরের সভাপতিত্বে ও নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় জাতীয় কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক ফন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৩
এসসি/আরবি