ঢাকা, শুক্রবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

মুক্তমত

সুপারমুন নিয়ে যতো কথা

শাহাদাৎ তৈয়ব | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৪
সুপারমুন নিয়ে যতো কথা

আজ ৯ সেপ্টেম্বরও বিশ্বের অসংখ্য মানুষ দর্শন করতে যাচ্ছে সুপারমুন। এই সুপারমুন দর্শনের আগে জেনে নেয়া যাক এর আদ্যোপান্ত।



চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে চলে এলে ভূমিকম্প, সুনামি, অনাবৃষ্টি, সাইক্লোন, আগ্নেয়গিরি উদ্গীরণ ইত্যাদি নানা বিপর্যয় এসে পৃথিবীকে গ্রাস করে— ‘মুন’ থেকে ‘সুপারমুন’ হয়ে ওঠার পেছনে এরকম অনেক রহস্যময় কথা শোনা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা ও আলোচনা করেছেন। তবু সুপারম্যান কেন সৃষ্টি হয় তা নিয়ে এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক কিছু রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছে।   

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিমাসে পূর্ণিমা ঘটলেও কক্ষপথ পরিভ্রমণে পৃথিবীর সাপেক্ষে চাঁদের দূরত্বের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে চাঁদ কখনো কখনো পৃথিবীর তুলনামূলক কাছে চলে আসে, আবার কখনো দূরে অবস্থান করে। এই দূরত্ব ও কাছে চলে আসার সাথেই সুপারমুন সৃষ্টির রহস্য জড়িত।

সুপারমুন কি?

পৃথিবীর সাপেক্ষে কক্ষপথে চাঁদ খুব কাছাকাছি চলে এলে যে পূর্ণিমা, তাকেই সুপারমুন বলা হয়। এ সময় অন্যান্য সময়ের সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় চাঁদকে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও বড় দেখায়। অর্থাৎ অন্য সময়ের দূরতম অবস্থানের তুলনায় এ সময়কার পৃথিবীর কাছে থাকা চাঁদকে ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখতে পাওয়া সম্ভব।

অপরদিকে যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ মহাশূন্যে কমবেশি একই কক্ষপথে অবস্থান করে, তখন এদের মধ্যে দূরত্বের স্তর সর্বোচ্চ থাকে। তবে নিম্নগতি এ সময় অনেক বেড়ে যায়। এটাকে স্প্রিং টাইডও বলা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবীর একেবারে কাছে চলে আসা এই চাঁদের অবস্থানকে পেরিজি (perigee) এবং দূরতম অবস্থানকে অ্যাপজী (apogee) বলা হয়।

পৃথিবীর সঙ্গে চাঁদের সর্বনিম্ম দূরত্ব প্রায় ৩৬৩,১০৪ কি.মি. বা ২২৫,৬২৩ মাইল এবং সর্বোচ্চ দূরত্ব প্রায় ৪০৫,৬৯৬ কি.মি. বা ২৫২,০৮৮ মাইল। পৃথিবী ও চাঁদের গড় দূরত্ব ৩৮৪,৪০০ কি.মি বা ২৩৮,৮৫৫ মাইল। যদিও চাঁদ প্রতি বছর পৃথিবী থেকে ৪ সে.মি করে সরে যাচ্ছে।

তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, চলতি বছরে সুপারমুন অন্তত ৫ বার দেখা যাবে বলে আগেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চলতি বছরে জানুয়ারি, জুন, জুলাই, আগস্টে বিশ্বের লাখ লাখ দর্শক সুপারমুন উপভোগ করেছে।

সুপারমুনের আবিষ্কার ও নামকরণ

আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৭৯ সালে বিখ্যাত জ্যোতিষী রিচার্ড নোলে সুপারমুন আবিষ্কার করেন। তিনিই সর্বপ্রথম এর নামকরণ করেন সুপারমুন। এত আগে এটি আবিষ্কৃত হলেও গত কয়েক বছর ধরে সুপারমুন নামটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।   তবে বিজ্ঞানীরা এটাকে পিরেজি ফুল মুনও বলে থাকেন।

কখন হয়ে ওঠে সুপারমুন

নোলের বক্তব্য অনুযায়ী, চাঁদকে পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৫১ মাইল দূরে থাকতে হয়। তবে যখন এই দূরত্বের একেবারে মাঝামাঝি চলে আসে চাঁদ, তখনই পূর্ণচাঁদ বা সুপারমুনের ঘটনা ঘটে।

প্রতি ১৪টি চান্দ্র মাস সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সুপারমুন ঘটে থাকে। অর্থাৎ একটি সুপারমুন সংঘটিত হওয়ার পর ১৫তম পূর্ণিমাটি হচ্ছে সুপারমুন। সময়ের হিসেবে এটি ১ বছর ১মাস ১৮ দিন।

একুশ শতকের মধ্যে ২৫ নভেম্বর, ২০৩৪ এবং ৬ ডিসেম্বর, ২০৫২ সালে চাঁদ পৃথিবীর বেশি নিকটে থাকবে।

এর আগে ১৯৩০ সালের ১৪ জানুয়ারি চাঁদ সবচেয়ে কাছে এসেছিল, এরকম আবার ঘটবে ২২৫৭ সালের ১ জানুয়ারি। এছাড়া পরবর্তী সুপারমুনের তারিখ হচ্ছে: ১০ আগস্ট, ২০১৪; ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫; ১৪ নভেম্বর, ২০১৬।

সর্বশেষ সুপারমুন দেখা যায় ১০ আগস্ট। এ সময় চাঁদ পৃথিবীর প্রায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৯৬ কিলোমিটার কাছাকাছি চলে আসে।

ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের ৮ তারিখও দেখা যেতে পারে সুপারমুন।   

সুপারমুন এর প্রভাব?

সাধারণত নদীতে জোয়ারের ক্ষেত্রে চাঁদের পূর্ণিমার প্রভাব রয়েছে। কিন্তু এতে সুপারমুনের কোনো প্রভাব নেই। কারণ পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে এলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কিছুটা বেশি উচ্চতায় জোয়ার হয়ে থাকে। এতে সুপারমুনের ক্ষেত্রে প্রায় তেমনটি ঘটে থাকলেও, বড়জোড় অন্যান্য পূর্ণিমার চেয়ে সামান্য উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তবে তা এতোটাই নগন্য যে সাধারণ চোখে কোনো পার্থক্যই ধরা পড়ে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।