বগুড়ায় সুন্দরী নারী দিয়ে ফাঁদে ফেলে দুই ব্যক্তিকে একটি ফ্ল্যাটে জিম্মি করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে শহরের চকসূত্রাপুর শহীদ বিলু সড়কের রহমান ভিলার পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে জিম্মিদের উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায় এ চক্রের হোতা চকসূত্রাপুরের সাবেক যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর কারাবন্দি মতিন সরকারের ছোট ভাই ওমর সরকার। ওমর সরকার শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার নামে হত্যা,চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর তার ভাই মতিন সরকার এবং তুফান সরকার গ্রেপ্তার হলেও ওমর সরকার এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো।
বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ওমর সরকারের সঙ্গে গ্রেপ্তাররা হলেন, মহসিন কাজি সিজান, কেয়া বেগম, আফসানা মিমি, কামরুন্নাহার অধরা, এনামুল হোসেন ওরফে রায়হান, ও নয়ন হোসেন।
ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ফজলুর রহমান (৪৪) মাসখানেক আগে তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। সেখানে কেয়া বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। বৃহস্পতিবার সকালে কেয়া ফোন করে ফজলুর রহমানকে বগুড়া শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় আসতে বলেন। বেলা ১১টার দিকে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় তাদের দেখা হয়। কেয়া বেগম ফজলুর রহমানকে চকসূত্রাপুরের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর ফজলুর রহমানের আরেক বন্ধুকেও সেখানে ডেকে আটকিয়ে রাখা হয়।
ইকবাল বাহার আরও জানান, ওই ফ্লাটে কেয়া বেগম ছাড়াও আরো দুই নারী আগে থেকেই অবস্থান করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে ওমর সরকার তার সহযোগীদের নিয়ে হাজির হন। পরে আটকে রাখা দুই ব্যক্তিকে মারধর করে কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদেরকে ওই নারীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অশালীন ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করে। সেখানে আটকে রেখে তাদের পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। জিম্মিদের পরিবার বিষয়টি ডিবিকে জানালে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে উদ্ধার ও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের নামে মামলা দিয়ে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেএইচ