ঢাকা, বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

পর্যটন

ঈদের ছুটিতে আকর্ষণের কেন্দ্রে পদ্মার পাড়, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও শকুনি লেক 

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৫০ ঘণ্টা, এপ্রিল ৯, ২০২৪
ঈদের ছুটিতে আকর্ষণের কেন্দ্রে পদ্মার পাড়, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও শকুনি লেক 

মাদারীপুর: পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে সেতু থেকে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত নদীর পাড়জুড়ে নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই বাঁধই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র।

 

বিশেষ করে ঈদ, পহেলা বৈশাখসহ ছুটির দিনগুলোতে ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরে বেড়ান এসব স্থানে। পদ্মা নদীর পাড় বিকেলের ভ্রমণের জন্য দিন দিন আদর্শ স্থান হয়ে উঠছে। স্নিগ্ধ বাতাস, নদীর পানিতে ছোট্ট নৌকায় ভেসে বেড়ানো, জেলের মাছ ধরার দৃশ্য আর হাঁটু পানিতে পা ভিজিয়ে বসে থাকার মধ্যে রয়েছে ভিন্ন রকমের প্রশান্তি।  

ভ্রমণপিপাসুদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় এই অনুভূতি! 

পদ্মার পাড়

ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে পদ্মা সেতু সংলগ্ন নদীর বিস্তৃত পাড় এলাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হবার পর রাজধানী ঢাকা থেকেও শুধু বিকেল আর সন্ধ্যার সময়টা নিজের করে কাটাতে পদ্মার পাড়ে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। বিকেল হলেই পদ্মার পাড়ে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।  

বিভিন্ন সময়ে আসা এসব দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, বিকেলে পদ্মার পাড়ে যেন প্রশান্তির ছোঁয়া নেমে আসে। সূর্যাস্তের সময় লালচে পশ্চিমাকাশ আর নদীর ঢেউয়ের শব্দ মুগ্ধ করে। এ কারণেই পদ্মানদীর পাড় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর ঈদে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর থাকবে এই এলাকা।

পদ্মা সেতুর দক্ষিণে অর্থাৎ জাজিরা টোল প্লাজা থেকে নেমে পদ্মাপাড়ে পৌঁছানো খুবই সহজ। কাঠালবাড়ী ফেরিঘাটের সড়ক দিয়েই যেতে হয়।

এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চল থেকে কেউ এলে পুরাতন কাওড়াকান্দি ঘাট অথবা কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এলেই নদী পাড়ের বিস্তৃর্ণ এলাকা চোখে পড়বে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, ভ্যানে চড়ে নদীর পার পর্যন্ত যাওয়া যায়। সূর্য ডোবার দৃশ্যসহ প্রকৃতি উপভোগ করার সঙ্গে রয়েছে পদ্মার তাজা মাছ কেনার সুযোগও। আর সন্ধ্যার পর ফিরে যাওয়ার সময় পদ্মার ইলিশ আর ভুনা খিচুরি তো আছেই।  


শিবচরের এক্সপ্রেসওয়ে ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

ঢাকা-ভাঙ্গা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে। পদ্মা সেতু থেকে নেমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটারের এই পথেই শিবচর উপজেলার সূর্যনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ। নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক্সপ্রেসওয়ের ঠিক পাশেই। মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া যাত্রী ও পথিকদের চোখ জুড়িয়ে যায় মসজিদ দেখে। মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার পর থেকেই একে ঘিরে এক রকম পর্যটনের ছোঁয়া লেগেছে। সকাল এবং বিকেল থেকে রাত অবধি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখোর হয়ে থাকে মসজিদ প্রাঙ্গণ। আর ঈদের ছুটিতে এখানে ঢল নামে মানুষের। দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের দেখা যায় ঈদের ছুটির দিনগুলোতে।  

স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে অসংখ্য লোকজন এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর পর্যন্ত আসে শুধু সময় কাটাতে। ঘুরতে যারা এদিকে আসেন, তারা এই মসজিদ দেখেই বাড়ি ফিরেন। বিকেলে অসংখ্য লোকের সমাগম হয়। আসর এবং মাগরিবের নামাজের সময় মসজিদ ভরে যায়। দিন দিন পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠছে আমাদের এই এলাকা।

ঢাকা থেকে সরাসরি ভাঙ্গাগামী বাসে চড়ে সূর্য্যনগর বাসস্ট্যান্ডে নামলেই চোখে পড়বে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ সংলগ্ন জামে মসজিদটি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ও তার পরিবারবর্গ সম্মিলিত ভাবে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। নির্মাণ শৈলির অনন্যতার কারণে মসজিদটি দর্শণার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে দিন দিন।


শহরবাসীর প্রশান্তির জায়গা শকুনি লেক:

মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্বচ্ছ পানির বিশাল এক জলাশয় এই শকুনি লেক। মাদারীপুর শহরের গোড়াপত্তনের সময় এই লেক তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে। শকুনি লেক মাদারীপুর শহরবাসীর কাছে দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদনের এক অন্যতম স্থান। সৌন্দর্য বর্ধনের পর শকুনি লেক হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। ঈদ মৌসুমে ঢল নামে দর্শনার্থীদের। আশপাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন শকুনি লেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব যখন বিলীন হতে থাকে, তখন নতুন করে শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজন হলে ১৯৪২-৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়। এলাকাটি ছিল জনমানবহীন এবং বনজঙ্গলে ভরা নিম্নভূমি। নদীভাঙন কবলিত তৎকালীন মহকুমা শহরের কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, থানা, জেলখানাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো স্থানান্তরের জন্য এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়। সমতলে এসব স্থাপনা তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন হয়। তাই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসন লেকটি খনন করে মাটির চাহিদা পূরণ করে।

সেই কৃত্রিম লেকটটিই আজ এক দৃষ্টিনন্দন সরোবর। এলাকার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। বহিরাগত যে কেউ মাদারীপুর শহরে প্রবেশ করেই এই লেকের মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়। লেকপাড় জুড়ে স্বচ্ছ জলছোঁয়া বাতাস যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। আর ঈদ মৌসুমে এই পাড় মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।  

ভ্রমণপিপাসু শকুনি লেকসহ আশপাশের এলাকা সহজেই পরিদর্শন করতে পারেন। সৌন্দর্য উপভোগ শেষে লেকের পাড়ে গড়ে উঠা আধুনিক নানান রেস্তোরাঁয় বাহারি খাবার খাওয়ার সুযোগও রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুরো লেকজুড়ে রয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০২৪
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।