ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভারত

ফের জেল হেফাজতে ঠাঁই হচ্ছে পিকে হালদারের

ভাস্কর সরদার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৪ ঘণ্টা, জুন ৬, ২০২২
ফের জেল হেফাজতে ঠাঁই হচ্ছে পিকে হালদারের

কলকাতা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক বাংলাদেশের আলোচিত ব্যবসায়ী  প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের এখনো জেরা শেষ হয়নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। সম্পূর্ণ তথ্য পেতে আরও সময় লাগবে।

ফলে আবার জেল হেফাজতে থাকতে চলেছেন তিনি। সোমবার (৬ জুন) ইডি সূত্রে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা ২৫দিন ধরে চলতে থাকা জেরাতেও পিকে হালদার ও তার সহযোগিদের কাছ থেকে এখনো সম্পূর্ণ তথ্য পায়নি ভারতের অর্থনীতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী-ইডি। ফলে ইডি মঙ্গলবার (৭ জুন) তাদের আদালতে তোলা হলে ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজত ও জেরার জন্য আবেদন করবে ইডি। তবে বিচারক কী আদেশ দেন সেই অপেক্ষা আছেন সবাই।

বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা পিকে হালদার এবং তার পাঁচ সহযোগিকে গত ২৭মে ১১ দিনের জেল হেফাজতের আদেশ দিয়েছিলেন কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিচারক সৌভিক ঘোষ। এই আদেশের ফলে পিকে হালদারসহ বাকিদের মঙ্গলবার (৭ জুন) ফের আদালতে হাজির করা হবে। জেল হেফাজতের পাশাপাশি ইডিকে জেরা করার অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারক। ফলে মঙ্গলবার আবার আদালতে তোলা হবে হালদারদের।

তবে ইডি সূত্রে জানা যায়, জেরায় এখন পর্যন্ত পিকে হালদার তাদের যে তথ্য দিয়েছেন সেগুলি হল- ভারতে শিবশংকর হালদার নামে পুরনো এবং নতুন মিলিয়ে ১৩টা বাড়ি এবং ফ্ল্যাট ও একটি বোট হাউস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েক বিঘা খালি জমি কেনা ছিল শিবশংকর হালদার নামে। পিকে হালদারের ভারতীয় নাগরিকত্ব নথির সঙ্গে এসব সম্পত্তির দলিল-দস্তাবেজ এখন ইডির হাতে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের অবৈধ টাকায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করছিলেন পিকে হালদার। সেই টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছিলেন।

এছাড়া পিকে হালদার এবং শিবশংকর হালদার উভয় নামেই মোট ১৩টি কোম্পানির হদিস পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে। পাশপাশি তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে বাংলাদেশ, ভারত এবং দ্বীপ রাষ্ট্র গ্রেনেডার পাসপোর্ট। যদিও ভারতীয় পাসপোর্টে তার নাম রয়েছে শিবশঙ্কর হালদার।

সেই সঙ্গে কানাডাবাসী হিসেবে শিবঙ্কর নামে একাধিক নাগরিকত্বের নথি এবং মোবাইল, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার মিলিয়ে মোট ৮১টি ইলেকট্রনিকস ডিভাইস পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সেগুলোর বেশ কয়েকটি ডিভাইস খোলা গেছে। তা থেকে ভারত এবং বাংলাদেশের বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্র জানিয়েছে।
 
এদিকে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, সম্ভবত খুব সহজেই বাংলাদেশ যেতে পারবেন না পিকে হালদাররা। কারণ ভারতের অংশে নানান অবৈধ বিষয়ে জড়িয়ে পড়ছেন তিনি ও সহযোগিরা। তাছাড়াও আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশের টাকা আত্মসাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে আস্তানা গড়ে তোলা, এতবড় কাণ্ড রাজ্যটিতে এর আগে ঘটেনি। যার জেরে ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হতে পারে। পাশাপাশি জানা গেছে, খুব শিগরিই বাংলাদেশের তদন্তকারী টিম পশ্চিমবঙ্গে এসে পিকে হালদারদের জেরা করতে পারেন।

ইডি সূত্রে জানা যায়, তারা নিয়মিত যে প্রশ্নগুলি পিকে হালদারকে করছেন তা হচ্ছে- ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি এবং ব্যবসা বিস্তারে পশ্চিবঙ্গে কারা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন? সেই সব প্রভাবশালীদের ধরেই কি পশ্চিমবঙ্গে রিয়েল এস্টেটে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি? এখন পর্যন্ত টাকার সঙ্গে সম্পত্তির অর্থের পরিমাণ মিলছে না। তাহলে বাকি টাকা গেল কোথায়? সেই টাকা তিনি কি কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন? নাকি প্রভাবশালীদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে? যদি হয়ে থাকে কারা সেই টাকা নিয়েছেন বা লুকিয়ে রাখলে সেই টাকা ভারতে আছে নাকি বিদেশে পাচার হয়েছে? একইভাবে তার সহযোগী আমানা সুলতানা ওরফে শার্লি হালদারকেও জেরা করা হচ্ছে। পিকে হালদার নাম পরিবর্তন করে কেন তাকে ভারতে এনেছেন? শুধুই ভালোবাসার খাতিরে আমনার পশ্চিমবঙ্গে আসা, নাকি অন্য কিছু?  

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে গ্রেফতার হন পিকে হালদার, প্রানেশ কুমার হালদার, প্রীতীশ কুমার হালদার, স্বপন মৈত্র, উত্তম মৈত্র ও আমনা সুলতানা। এরপর প্রথমে ৪ দিন ও পরে ১০ দিন অর্থাৎ, ১৪ দিন ইডির রিমান্ডে থাকার পর গত ২৭ মে আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় তদন্তের কারণে তাদের ১১ দিনের জেসি অর্থাৎ জুডিশিয়াল কাস্টাডি হয়।

ইডির পক্ষে আদালতে লড়ছেন আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী আলী হায়দার ও সোমনাথ ঘোষ। ইডির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত পিকে হালদারদের নামে দুটি মামলা করা হয়েছে। প্রথমটি অবৈধ অর্থপাচার আইনে, দ্বিতীয়টি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে। এখন দেখার অপেক্ষা কী রায় দেন আদালত। বর্তমানে পিকে হালদারসহ চার সহযোগী আছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে এবং আমানা সুলতানা আছেন আলিপুর জেলে। মঙ্গলবার (৭ জুন) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, জুন ০৬, ২০২২
ভিএস/এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa