ঢাকা, শনিবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০২ মার্চ ২০২৪, ২০ শাবান ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৩
‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

প্রেসিডেন্ট বাইডেন মঙ্গলবার রাতে মার্কিন পার্লামেন্ট অর্থাৎ কংগ্রেসের দুই কক্ষের সামনে ভাষণ দিয়েছেন। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সঙ্গে ভাষণের প্রেক্ষাপটও ছিল সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাইডেনের এই বাৎসরিক ভাষণ ছিল পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তার বার্তার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন জনগণ।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভাষণের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বাইডেনের জানান, আমেরিকা প্রথমে এবং পররাষ্ট্রনীতি শেষে। এর অর্থ হলো,পররাষ্ট্রনীতির আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই দেখবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রেরে আকাশে চীনা নজরদারি বেলুনের খবরটি বেশ বড় একটি ঘটনা ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন ওই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি। ভাষণের শেষে বিষয়টি নিয়ে সামান্য কথা বলেন। তিনি বলেন,‘আমরা গত সপ্তাহে পরিষ্কার করে দিয়েছি, চীন যদি আমাদের সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলে তবে আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করবো। ’


পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি যা বলেছেন তার বেশির ভাগই ছিল গত বছরের। এ ক্ষেত্রে, ইউক্রেনে রুশ সামরিক হামলা একটি বড় ঘটনা। বাইডেন কিন্তু এই বিষয়টি নিয়েও কম কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন গ্যালারিতে বসা ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সম্ভাষণ জানান। ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য মিত্র দেশগুলাকে অভিনন্দন জানান। তবে নতুন কোনো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেননি।

এদিকে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এই মানবিক বিপর্যয় নিয়েও কোনো কথা সে বলেননি। তার ভাষণের প্রধান বিষয় ছিল অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়।  

জরিপে দেখা যায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিই মার্কিন জনগণের কাছে এক নম্বর অগ্রাধিকার। বেশিরভাগ মানুষ এখন মনে করছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করলেও মানুষ মানুষ বুঝতে পারছে না। তবে বাইডেন বার বার চেষ্টা করেছেন মানুষকে বোঝাতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ এটি তাকে আগামী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে। তিনি বেকারত্ব কমার কথা বলেছেন। মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানির দাম কমছে বলেও উল্লেখ করেন। এই দুটি বিষয়ের কারণে গত ১৮ মাস ধরে তার জনসমর্থন কমেছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ শেষ করতে চাইলে তার রিপাবলিকানদের সাহায্য দরকার পড়বে। তাই ভাষণে বিরোধী রিপাবলিকানদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে এবং মাইক্রোচিপ উৎপাদনের বিনিয়োগের প্রশ্নে বা ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য নিয়ে অথবা সমকামী বিবাহে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার কথা তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুনি রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একত্রে কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা প্রমাণ করেছি একথা সত্যি নয়, যারা এমনটা বলেন তার ভুল বলেন। ’

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকার মধ্যেই বাইডেন তার প্রেসিডেন্সির দুই বছরে দেশের কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্বিদলীয় অগ্রগতি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ভাষণে।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই নতুন কংগ্রেসে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে না পারার কোনও কারণ নেই। ’ বাইডেন তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে রিপাবলিকানদেরকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘চলুন কাজ শেষ করি। ’

তিনি বলেন, ‘আমার রিপাবলিকান বন্ধুদের বলতে চাই, আমরা যদি বিগত কংগ্রেসে একসাথে কাজ করতে পারি, তাহলে এই নতুন কংগ্রেসেও একসঙ্গে কাজ করতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে একমত না হতে পারার কোনও কারণ নেই। ’

এই সময় রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মেজরি টেইলর গ্রিন চিৎকার করে বলছেন প্রেসিডেন্ট একজন ‘মিথ্যাবাদী। ’ 

সরকারী ঋণের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি টানা-হেঁচড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে আপোষের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত দেননি। উল্টো রিপাবলিকানদের খোঁচা দিয়েছেন।


রিপাবলিকানদের জানায়, সরকারি ঋণের সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কিন্তু বাইডেন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি ঋণের বোঝা যেভাবে বাড়িয়েছেন তা অতীতে আর কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি।

এই কথা শোনার পরেই রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। তারপরও বাইডেন ভাষণ চালিয়ে যান। পরে যখন বাইডেন বলেন যে, রিপাবলিকানরা সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ারে ব্যয় কমাতে চায় তখন উত্তেজনা আরও বেড়ে ওঠে। হাউজ স্পিকার ম্যাককার্থি ও অন্যান্য রিপাবলিকানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।  

প্রতি বছরের স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণের মত এবারও প্রেসিডেন্ট বাইডেন নতুন কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন যেগুলোর অধিকাংশই আইনে রূপ নেবে সে সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার দুটি ছিল – পুলিশের সংস্কার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আইন। এই দুই প্রস্তাবের সমর্থকরাও ছিলেন অতিথি হিসাবে গ্যালারিতে বসা। ছিলেন সম্প্রতি পুলিশের হাতে নিহত টায়ার নিকোলসের বাবা-মা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় মনিটরি পার্কে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনার একজন ‘হিরো’ যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তাদের দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন এই দুটো বিষয়ে আইন করা জরুরি। ‘এই কক্ষে আজ আমরা যারা রয়েছি তাদের সবারই ভূমিকা নিতে হবে। আমরা আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারি না। ’ মেমফিসে পুলিশের পিটুনিতে নিহত  নিকোলসের বাবা-মাকে দেখিয়ে বাইডেন পুলিশের সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র-বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশ সময়: ১১০৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৩
এমএইচএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।