ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২৩ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

বিমানবন্দর থেকে পাতাল রেলে ২৪ মিনিটে কমলাপুর  

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৩
বিমানবন্দর থেকে পাতাল রেলে ২৪ মিনিটে কমলাপুর  

ঢাকা: মেট্রোরেলের পর এবার পাতাল রেল যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এখন বাসে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে গড়ে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা, আর পাতাল রেল চালু হলে লাগবে মাত্র ২৪ মিনিট।

 

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টা ৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পীতলগঞ্জে আয়োজিত সুধী সমাবেশ থেকে দেশের প্রথম পাতাল রেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাতাল রেলের এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো অংশ  নির্মিত হবে মাটির নিচ দিয়ে। তবে পীতলগঞ্জ থেকে কমলাপুর-বিমানবন্দর মেট্রোরেল রুটের সঙ্গে যুক্ত অংশটি হবে এলিভেটেড।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১-এ ১২টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনে বিরতিসহ পাতাল রেলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অন্যদিকে সাতটি স্টেশনে বিরতিসহ নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড।

এছাড়া নতুন বাজার ইন্টারচেঞ্জের মাধ্যমে ১৬টি স্টেশনে বিরতিসহ পূর্বাচল থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট।

এটিই দেশের মেট্রো রেলের প্রথম পাতাল যাত্রা। এ পথে দৈনিক আট লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

এ পাতাল রেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা। জাপানি ঋণ ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। আর বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্প সূত্র জানায়, দ্বিতীয় মেট্রো রেল হবে উড়াল ও পাতাল পথের সমন্বয়ে। দুটি রুটে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ নির্মাণ হবে। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত- এই রুটে মাটির নিচ দিয়ে চলবে রেল। এটি ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রুট।

এই রুটে স্টেশন হবে মোট ১২টি। এগুলো হচ্ছে- বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর।

আর পূর্বাচল রুটে নতুন বাজার স্টেশনটি হবে পাতালে। এরপর নতুন বাজার থেকে পূর্বাচলের নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে। এ রুটে আবার স্টেশন হবে নয়টি।

এগুলো হচ্ছে- নতুন বাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা, পুলিশ অফিসার্স হাউসিং সোসাইটি, মাস্তুল, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল পূর্ব, পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো।

পাতাল রেল হচ্ছে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি-১) প্রকল্পের আওতায়। এটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে মেট্রো রেলের ডিপো নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ডিএমটিসিএল।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ছয়টি মেট্রো রেলের নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে শেষ করা হবে।  

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৮ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-২ এবং এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল- এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার মধ্যে দিয়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এ রুটে এখন নিয়মিত মেট্রোরেল চলছে।

দেশের প্রথম পাতালরেল নির্মাণকাজ উদ্বোধন
যানজটের শহরে এলো স্বপ্নের মেট্রোরেল

 

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৩
এমইউএম/এসআইএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।