ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমেছে ফলের

তানভীর আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৫ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০২৩
দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমেছে ফলের

ঢাকা: বছর ঘুরে আবারো শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। আর রোজাদারদের জন্য ইফতার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রোজা ও ইফতারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় বাজারে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

রামজানের প্রথম দিনে শুক্রবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন দেশে-বিদেশি ফলের দামও। তবে দাম বাড়লেও বাজারে ফলের সরবারহ রয়েছে পর্যাপ্ত।

গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রত্যেকটি ফলের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। যা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কঠোর ও বাস্তবসম্মত না হলে বছরে বছরে দাম এভাবে বাড়বেই যাবে। তাই সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।

রোজার ইফতারির অন্যতম উপাদান খেজুর। রাজধানীর প্রতিটি বাজার এবং অলিগলির ফুটপাতেও রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দোকান চোখে পড়ে। তবে সর্বত্রই দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। বর্তমানে বাজারে সাধারণ মানের প্রতি কেজি খেজুরের দাম ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গত বছর সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর যে খেজুর গত বছর ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই খেজুরের কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় খেজুর বিক্রিও অনেক কমে গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আগে তারা যে পরিমাণ খেজুর বিক্রি করতেন এবার তার অর্ধেকও বিক্রি হয়নি। একই অবস্থা অন্যান্য ফলের দোকানগুলোতেও। আঙুর, আপেল, মালটা সবকিছুই দোকানে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। কিন্তু তার দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

সোলাইমান নামে এক ক্রেতা বলেন, গত বছরও রোজার আগে আঙুর কিনেছি ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এবার তা ৩৫০ টাকা। যে মাল্টা গত রোজায় কিনেছি ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি, তা এবার তা ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর পল্টন, গুলিস্থান ও বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কমলা, তরমুজ, আপেল, মাল্টা, পেয়ারা, আনারস, ডালিম, পেঁপে, কলা, বেল, আনারস ও সফেদা বেশি কিনছেন ক্রেতারা। প্রতি কেজি মাল্টা ২২০ থেকে ২৫০, পেয়ারা ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও পেঁপে ৬০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলার ডজন মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। আকারভেদে একেকটি আনারস ৩০-৫০ টাকা। সফেদার কেজি ১০০-১৫০ টাকা। আর তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৮০ টাকা কেজি। মানভেদে বেলের হালি পড়ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

বিদেশি ফলের মধ্যে প্রতি কেজি সবুজ আপেল ৩০০ টাকা, লাল আপেল ৩০০ টাকা, রয়েল গালা ৩০০, ফুজি আপেল ২৬০, কমলা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, লাল আঙুর ৫৫০, সবুজ আঙুর ২৮০, কালো আঙুর ৩৮০ টাকা কেজি।

রমজানে খেজুরের দোকানে ক্রেতা বাড়ে সবচেয়ে বেশি। বাজারে ইরানি মরিয়ম ৮০০ টাকা, সৌদি মবরুর মরিয়ম ৯০০ টাকা, আজোয়া খেজুর ৮৫০ টাকা, কালমি মরিয়ম ৬০০ ও বরই খেজুর ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মরিয়ম বেগম নামে এক ক্রেতা বাংলানিউজকে বলেন, ইফতারের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার হচ্ছে ফল। তাই আমি ইফতারের মেন্যুতে অন্যান্য খাবারের চেয়ে বেশি ফল রাখি। তবে এবার ফলের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই ইচ্ছা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় চাহিদা মতো ফল কিনতে পারছি না।

দাম বাড়ার বিষয়ে বায়তুল মোকাররমের ফল বিক্রেতা সোহেল রানা বাংলানিউজকে বলেন, পাইকারি আড়তে ফলের দাম বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে খুচরা দোকানদারদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার সংকটের প্রভাব ফলের আমদানি-রপ্তানিতে পড়ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০২ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০২৩
টিএ/এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।