ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১, ০১ মার্চ ২০২৫, ০০ রমজান ১৪৪৬

জাতীয়

মার্চে ঢাকা নগর পরিবহনেও চালু হচ্ছে র‍্যাপিড পাস

নিশাত বিজয়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০২৩
মার্চে ঢাকা নগর পরিবহনেও চালু হচ্ছে র‍্যাপিড পাস

ঢাকা: মেট্রোরেল, বিআরটিসি শাটল বাসের পরে আগামী বছরের মার্চে ঢাকা নগর পরিবহনে চালু হবে র‍্যাপিড পাস। এর ফলে এই পাসের মাধ্যমে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটে (বিআরটি) একটি কার্ডেই সব বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এর মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার বাসিন্দারা ইউটিলিটি বিল, সড়ক ও সেতুর টোল, সুপারশপে কেনাকাটা, শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধে ওয়ান স্টপ পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল।

র‍্যাপিড পাস ব্যবহারে বর্তমানে মেট্রোরেলের প্রতি যাত্রায় ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। কার্ডের মূল্য ৪০০ টাকা, এর মধ্যে ২০০ টাকা জামানত, ২০০ টাকা ব্যালেন্স। কার্ডের মেয়াদ আজীবন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে নির্বাচিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে কার্ড ইস্যু বা রিচার্জ করা যাবে। সব মেট্রোরেল স্টেশনের টিকেট অফিস থেকে রিচার্জ করা যাবে।

একইসঙ্গে গত ১ নভেম্বর হতে আগামী ৩০ নভেম্বর (১ মাসব্যাপী) পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম স্থান, বাস স্টপ ও মেট্রোরেল স্টেশনে ‘র‍্যাপিড পাস’ বিক্রয় করা হচ্ছে। অনলাইনে rapidpass.com.bd ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, গত ১ নভেম্বর থেকে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার টিকেট বিক্রি করেছি। র‍্যাপিড পাসের চাহিদা অনেক।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিবহনের ভাড়া আদায় নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে, যাত্রা শুরু ও গন্তব্যের (অরিজিনেশন- ডেস্টিনেশন বা ওডি) ডেটা তৈরি করবে, যা ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত কৌশলগত নগর পরিবহন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।

র‍্যাপিড পাসে খুশি যাত্রীরা

বর্তমানে মেট্রোরেল ও বিআরটিসি শাটল বাসে র‍্যাপিড পাসে চলতে পারছে যাত্রীরা। মিরপুরের বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, র‍্যাপিড পাসের সুবিধা হচ্ছে টিকেট কাটতে অতিরিক্ত সময় খরচ করতে হচ্ছে না। এছাড়া অগ্রিম ও শেষ যাত্রায় যাওয়ার জন্যে অতিরিক্ত মেট্রোরেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে একটা দাবি, বিকাশ বা নগদ থেকে সহজে টাকা রিচার্জ করার সুবিধা যুক্ত করা উচিত।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ আশীষ কুমার দে বাংলানিউজকে বলেন, গণপরিবহনের নিয়মিত যাত্রীরা টিকেট কেনার বিষয়ে যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতেন র‍্যাপিড পাস চালুর মাধ্যমে সেই ঝামেলা থেকে মুক্ত হবেন। একইসঙ্গে যাত্রীদের সময়ও বেঁচে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিটিসিএর এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।  

তবে শুরুতে যেসব কথা বলা হচ্ছে সেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হলেই এ উদ্দেশ্য সফল হবে অভিমত জানিয়েছেন এ পরিবহন বিশেষজ্ঞ।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের ওয়েবসাইট আপগ্রেডের কাজ চলছে। তারপর কিছু সুবিধা যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০২৩
এনবি/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।