ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। এর পর টানা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে এই জাতি অর্জন করেছে লাল-সবুজ পতাকা।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী কলেজ মাঠে একটি মানব শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। কলেজের ৬শ' ১০ জন শিক্ষার্থী মিলে ৫২'র ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এ মানব শহীদ মিনার রচনা করে।
রুক্ষ মেজাজের ফাল্গুনি রোদের তাপ উপেক্ষা করে প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিলো মানব রচিত এ শহীদ মিনার। এটি বিশ্বের প্রথম এবং সব চেয়ে বড় মানব শহীদ মিনার বলেও দাবি রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী নাবিল, তামহীদ, আহনাফ ও অরনী কর্মকার জানান, প্রায় ১৪ দিন ধরে পরিকল্পনার ফসল ছিলো আজকের এ শহীদ মিনার। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কলেজ মাঠে তারা মঙ্গলবার সকালে ব্যতিক্রমী এ মানব শহীদ মিনার তৈরি করেন।
এর আগে তাদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে লাল-সবুজ রঙের ‘মানব পতাকা’ করেছিলো। এবার তারা ‘মানব শহীদ মিনার’ তৈরি করছে। কাজটি ভালোভাবে শেষ করতে পেরে তাদের ভিষণ ভালো লেগেছে। উদ্যোগটাই বড় বিষয়। প্রথম কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া না পাওয়াটা মূখ্য নয়।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. হবিবুর রহমান বলেন, ‘এইটি বিশ্বের প্রথম বা সবচেয়ে বড় মানব শহীদ মিনার কিনা সেই বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য নেই। একজন অধ্যক্ষ হিসেবে আমি সেই বিতর্কে যাবে না। তবে এটা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি মানব শহীদ মিনার তৈরি করে কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে’।
রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘গত বছর আমরা মানব পতাকা তৈরি করেছিলাম। এবার শিক্ষার্থীরা নিজেই এসে বললো মানব শহীদ মিনার তৈরির কথা। আমার কাছেও ব্যতিক্রম মনে হয়েছে তাই, অনুমতি দিয়েছি এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। সফলভাবে কাজটি শেষ করতে পারায় তাদের সঙ্গে আমিও খুশি’।
এ সময় তিনি উল্লেখ করে বলেন, রাজশাহী কলেজ সৃজনশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠেছে। শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনীতে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের এমন ভালো কাজে তার সহযোগিতা থাকবে বলে জানান রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭
এসএস/ওএইচ/