ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মাঘ ১৪৩১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

সুবিধা বেশি লোকাল সার্ভিসেই

শেখ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৯, ২০১৭
সুবিধা বেশি লোকাল সার্ভিসেই বিমানবন্দর বাস স্টেশন/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: ‘রাজধানী ঢাকা যানজটের নগরী। কোথাও যেতে বাসে করে রওয়ানা দিলেই দিন পার হয়ে যায়। একটু পরে পরে সিগন্যাল আর যানজট, সিটিং আর লোকাল তাতে কী? যানজটে তো পড়তেই হবে! নির্ধারিত সময়ের কোথাও যেতে হলে যানজটের কথা ভেবেই রওয়ানা দিতে হয় আমাদের।’

‘রাস্তায় সিটিং সার্ভিসও চলে, লোকাল সার্ভিসও চলে। এ যানজটের নগরীতে কেউতো আর উড়ে যেতে পারবে না, তাই না? আর সিটিং সার্ভিস যাত্রীদের গলাকাটে।

যেখানেই নামি ভাড়া বেশি দিতে হয়, টাকা তো আর গাছে ধরে না, যে চাইলেই দিয়ে দিতে হবে, কষ্ট করে রোজগার করতে হয়!”

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর বাস স্টেশনে ফারহান সাদিক নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলানিউজকে এসব কথা বলেন।

কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বাসের অপেক্ষায় বিমানবন্দর বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ফারহান সাদিক বলেন, “সিটিং থেকে লোকাল সার্ভিসেই বেশি সুবিধা। সিটিং সার্ভিসে ভাড়া বেশি। তাও আবার অনেক সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হয়। তখন সেটা আর সিটিং সার্ভিস কিভাবে থাকে। লোকালের মতোই যেতে হয়, কিন্তু ভাড়ার বেলায় সিটিং সার্ভিসের ভাড়া। ”

তিনি আরও বলেন, “প্রায় সাড়ে তিন বছর হলো কারওয়ান বাজারে অফিস করি। প্রতিদিনের চিত্র একই। অফিসের কাজে অনেক সময় মিরপুর যেতে হয়, ওই লাইনের বাসগুলোতে উঠলেই মনে হয়, ভাড়া নয় ওঠার জন্য জরিমানা দিচ্ছি। যেখানেই নামেন ভাড়া ৩০ টাকা। তার থেকে লোকালে গেলে অনেক খরচ কম হয়। আমি নিম্ন আয়ের মানুষ, মাসের সব খরচ হিসাব করেই করতে হয়। “

শুধু ফারহান সাদিকই নয়, যারা প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে বাসের অপেক্ষায় থাকেন তাদের মতো অনেক যাত্রীই এ ধরনের কথা বলেন।

লোকাল সার্ভিসে কী কী সুবিধা? জানতে চাইলে ওই যাত্রী বলেন, “ভাড়া কম, যেখানে নামায় সেখানের ভাড়া কাটে। রাস্তায় যানজট হলে নেমে অন্য বাসে বা পরিবহনে ওঠা যায়, ইদানিক অন্য বাসগুলো লোকালভাবে চলার কারণে ভাড়া কমেছে। রাজধানীতে সকাল বেলা অফিস টাইমে প্রায় সব খানেই যানজট থাকে। এতে কিছুটা সময় নিয়েই বের হতে হয়। ”

নিলুফার নামে আরেক এক যাত্রী বলেন, “যানজটের কারণে অন্তত ৩০ মিনিট সময় নিয়ে বের হতে হয়। এটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবুও মাঝে মধ্যে দেরি হয়ে যায়। দেরির বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দেরি করে অফিসে প্রবেশের বিষয়টা মানতে কষ্ট হয়। “

বেশ কয়েকজন যাত্রী তাদের মতামত প্রকাশ করে বলেন, “নগরীতে কিছু সিটিং সার্ভিসের বাস থাকা প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেগুলো পরিপূর্ণ সিটিং সার্ভিস হতে হবে। দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না, সঠিক চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নিতে হবে। ”

এদিকে, জাবালে নূর পরিবহনের আব্দুল্লাহপুরের কাউন্টার ম্যান মো. জনি বাংলানিউজকে বলেন, “আমাদের বাস সার্ভিস শুরু থেকেই সিটিং হিসেবে চলে আসছে। তারপর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়টি কমিয়ে আনা হয়েছে। ওয়েবিল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধার কথাও আমাদের ভাবতে হবে। ”

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৯, ২০১৭
এসজেএ/ওএইচ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।