ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৫ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

'স্ত্রী-সন্তান ভালোই বোঝে আমার কাজটাই এমন'!

রীনা আকতার তুলি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৭
 'স্ত্রী-সন্তান ভালোই বোঝে আমার কাজটাই এমন'! বাংলানিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন মোল্যা নজরুল ইসলাম- ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। কাজে-কর্মে, দায়িত্বে তিনি সবসময়ই ব্যস্ত। তবুও ব্যক্তিজীবন বলে একটা কথা আছে! আর তাই হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সময় বের করার ব্যাপারটি এসেই যায়। বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানানলেন, তার পরিবার, স্ত্রী-সন্তান ভালোই বোঝে সিআইডির কাজটাই এমন!

দেশের জন্য কাজ করতে পারায় তারাও খুশি। আসলে পরিবারই মেনে নিয়েছে।

যখনই ঘরে ফেরেন না কেন তারা কিছু বলেন না। আসলে পুলিশের কাজ ২৪ ঘণ্টার। পড়ুন  বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রীনা আকতার তুলির লেখায় সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব:

বাংলানিউজ: দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে কখনও ক্লান্ত হন না?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: ক্লান্ত হই। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে আমরা কখনও আশা ছাড়ি না। আর তদন্তের ক্ষেত্রে টিমওয়ার্কের বিকল্প নেই। সব মিলিয়ে জয় আসবেই। বাংলাদেশে দুই-একটা ঘটনা এমন থাকতেই পারে, যার তদন্ত কষ্টকর। তবে লেগে থাকলে ঘটনা উৎঘাটন না করলেও কাছিকাছি চলে যাওয়ার সম্ভব। যদি সততা থাকে এবং সঙ্গে টিম ওয়ার্ক। ভালো করে জানতে হবে আইনও।
বাংলানিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন মোল্যা নজরুল ইসলাম- ছবি: শাকিল আহমেদ
বাংলানিউজ: বর্তমানে প্রযুক্তির দিক থেকে সিআইডি কতটা আপডেটেড হয়েছে?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: অবশ্যই হয়েছে, বর্তমানে আমাদের যা আছে তাই দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এছাড়া প্রতিনিয়ত আমাদের প্রয়োজনীয় সব বিষয় সরকারকে অবগত করা হচ্ছে। সরকারও আমাদের আধুনিকায়নে সহযোগিতা করছে। নতুন নতুন ডিভাইস যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে অপরাধীরা। আমরাও তাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

বাংলানিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইকে ডাকা হয় মাঝে মধ্যে। কেন তাদের কাছে কী এমন রয়েছে যা সিআইডির থেকে আলাদা?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: বিষয়টি আলাদার নয়, বরং এক হয়ে কাজ করার। যেমন বাংলাদেশে অর্থ-পাচারের ঘটনাটি শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি আন্তর্জাতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক্ষেত্রে একটি অপরাধ যখন দেশের বাইরে ছড়িয়ে যায় সেক্ষেত্রে দ্রুত রহস্য উৎঘাটনের জন্য বাইরের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়।

বাংলানিউজ: অভিযোগ আছে, সিআইডি চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব করে; কেন?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: একজন তদন্ত কর্মকর্তা একই সময় একাধিক মামলার তদন্ত করেন। এছাড়া ঝামেলার ও জটিল মামলার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগায় চার্জশিট দিতে বিলম্ব হয়। তবে কেউ ইচ্ছে করে দেরি করেন না। এছাড়া সিআইডির অনেক সফলতা আছে। সর্বোপরি এই বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে।

বাংলানিউজ: সাইবার ক্রাইম অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিআইডি কতটা দক্ষ?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: সাইবার ক্রাইম মোকাবেলা ও নিয়ন্ত্রণে সিআইডি প্রতিনিয়ত হালফিল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের চেষ্টা করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে এবং অপরাধের ধরনও বদলাচ্ছে। দক্ষতা যা রয়েছে তা আরও বাড়াতে কর্মকর্তাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলানিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন মোল্যা নজরুল ইসলাম।  ছবি: শাকিল আহমেদ
বাংলানিউজ: আপনি কি সন্তুষ্ট এই পেশায় এসে?
মোল্যা নজরুল ইসলাম: ছোট বেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল দেশের সেবায় কাজ করবো। এটি একটি নবেল জব (মহৎ পেশা) । আমি ইনজয় করছি। পাশাপাশি সন্তানদের কথা বলতে গেলে তারা তো লেখাপড়া করছে। যদি দেশের সেবা করতে চায় করবে, কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।

বাংলানিউজ: দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় মামলা তদন্তের একটি স্মরণীয় ঘটনা শুনতে চাই...
মোল্যা নজরুল ইসলাম: ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের এক কর্মকর্তার খুন হওয়ার বিষয়টি। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে এটির রহস্য উদঘাটন করেছিলাম। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ব্লগার রাজিব হত্যাকাণ্ড। ওই সময়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে আমরাই প্রথম সবার নজরে এনেছিলাম। এছাড়া নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জঙ্গি মতাদর্শ-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আমরাই  খুঁজে বের করেছিলাম।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৭
আরএটি/জেএম

প্রথম পর্ব
** 'মামলা যতো জটিলই হোক পুলিশ লেগে থাকলে পারে'

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।