ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৫ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

খাটুনি সমান, নারী শ্রমিকের মজুরি কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৫ ঘণ্টা, মে ১, ২০১৭
খাটুনি সমান, নারী শ্রমিকের মজুরি কম খাটুনি সমান, নারী শ্রমিকের মজুরি কম

পঞ্চগড়: বড় বড় পাথর মেশিনে ভেঙে নির্দিষ্ট আকারে ছোট করা হচ্ছে। আর ভাঙা পাথরগুলো ঝুড়ি ভর্তি করে মাথায় নিয়ে পাশের খোলা জায়গায় রাখছেন মাহমুদা, কালামরা।

ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টানা এই কাজ করেন তারা। তবে পুরুষদের সমান কাজ করলেও নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় কম মজুরি।

পাথরের কাজে নারী শ্রমিকদের চাহিদা থাকলেও তারা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ার শালবাহান, বুড়াবুড়ীর বালাবাড়ী, ভজনপুর, দেবনগর, তেতুলিয়া পুরাতন বাজার, বাংলাবান্ধা এলাকার অধিকাংশ মানুষ পাথরের সঙ্গে জড়িত। পাথর থেকে অর্থ উপার্জন করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে পাথর শ্রমিকের সংখ্যা কতো এর সঠিক পরিসংখ্যান সরকারি বা বেসরকারি কোনো দপ্তরে নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেশিনে পাথর ভাঙার পরে সেগ‍ুলো ঝুড়িতে ভর্তি করে মাথায় নিয়ে পাশের খোলা স্থানে জড়ো করছেন শ্রমিকরা। এরপর পাথর বাছাইয়ের পর ট্রাক ভর্তি করে পৌঁছানো হবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পাথর ভাঙা থেকে ট্রাক লোড করা পর্যন্ত টানা নারী-পুরুষ একত্রে সমান তালে কাজ করেন। পুরুষ শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি দিলেও নারী শ্রমিকরা কোনো ফাঁকি দেন না। আর এ কারণেই পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে নারী শ্রমিকের চাহিদা বেশি। তবে পুরুষদের সমান কাজ করলেও নারী শ্রমিকরা মজুরি পান কম। বর্তমানে পুরুষ শ্রমিক দৈনিক পান ৫০০ আর নারী শ্রমিক পান ৩৫০ টাকা। মজুরি বৈষম্যের কথা মহাজনদের জানালেই কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয় তাদের। তাই চাকরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে কোনো প্রতিবাদ না করে কাজ করে যান নারী শ্রমিকরা।

মাহমুদা আক্তার নামের এক নারী পাথর শ্রমিক বাংলানিউজকে বলেন, পুরুষদের সমান কাজ করলেও শুধু নারী হওয়ার কারণেই মজুরি কম পাই। এখানে অধিকার আদায়ের কথা বলতে গেলে কাজে নেবে না। অভাবের সংসারে সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। পুরুষরা কাজে ফাঁকিবাজি করে এজন্য নারী শ্রমিকের চাহিদা মহাজনদের কাছে বেশি। চাহিদা বেশি থাকলেও ন্যায্য মজুরি মেলে না।

খাটুনি সমান, নারী শ্রমিকের মজুরি কম

তিনি বলেন, অধিকার বুঝি না। সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে হলে কাজ করতে হবে। তারা পুরুষ এজন্যই নাকি তাদের মজুরি বেশি।

ফাতেমা বেগম নামে আরেক নারী শ্রমিক বলেন, এখানে পাথর শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী। পাথরের কাজ খুবই কষ্টের। এত কষ্টের পরেও পরিবার ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে নীরবে কাজ করে যাই। একদিন কাজ বন্ধ থাকলে অনাহারে দিন কাটাতে হয়। তাই মজুরি বৈষম্যের বিষয়ে মহাজনদের বিরুদ্ধে কেউ যেতে চায় না। তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জাহিদুর রশিদ নামের এক পাথর ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে বলেন, পাথরের সব কাজে এখানে পুরুষের তুলনায় নারীরা অনেক এগিয়ে। এগিয়ে থাকলেও তারা পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পান না।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব পাথর ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের যে মজুরি দেন আমিও তাই দেই। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারী শ্রমিকদের মজুরি ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায় বৃদ্ধি করলে আমিও বৃদ্ধি করেছি। সব ব্যবসায়ীরা পুরুষদের মতো নারী শ্রমিকদের মজুরি একই দিলে আমিও তাই দেব।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৮ ঘণ্টা, মে ০১, ২০১৭
আরআর/বিএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।