কাছে গিয়ে কথা বলে বোঝা গেলো তিনি হলেন বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনপূর্বক বিবাহ সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি, যিনি ঘটক হিসেবে একনামে সব মহলে পরিচিত।
শনিবার (০৬ মে) মহানগরীর মোক্তার হোসেন সড়কের আরিফুল ইসলাম নয়ন ও সানজানা আফরিন বৃষ্টির বিবাহোত্তর বৌভাত অনুষ্ঠানে কথা হয় ঘটক কাসেম সানার সঙ্গে।
কত বছর ধরে ঘটকালি করেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বয়স এহন ৮৮ বছর। ৪৯ বছর ধইরে ঘটকালি করি। এইটা ধইরে ১৮৫টা বিয়্যার ঘটকালি করছি। আমার কাজ মানুষের স্বপ্ন পূরণ করা।
তিনি জানান, লবনচরা স্লুইস গেটের আলামিন মসজিদের পাশে তার বাসা। ৫ ছেলে-মেয়ের জনক হলেও সবাই তাকে জাকারিয়ার আব্বা ঘটক নামে চেনেন।
লেখাপড়া না জানা এ ঘটক বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিবাহযোগ্য ছেলে-মেয়ে রয়েছে কিনা সে খোঁজ-খবর নেন। মোবাইলের এ যুগেও তার কোনো ফোন নেই। ঘটকালিই তার একমাত্র পেশা।
তিনি বলেন, ঘটকালি মহান পেশা। বিয়ে দেওয়ার কাজটি কঠিন হলেও এখন পর্যন্ত তিনি বড় কোনো সমস্যায় পরেন নি।
সফল ঘটকালির পারিশ্রমিক কতো? প্রশ্নের উত্তরে কাসেম সানা বলেন, পারিশ্রমিক কারো কাছে চাই না। যে যা খুশি হয়ে দেয় তাই লই। কখনো কেউ লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ছাতা দেয়। কেউ টাকাও দেয়।
৪৯ বছর ধরে নিজে কোনো জামা-কাপড় কেনেন নি। মানুষের দেওয়া উপহারই পরেন বলে জানান তিনি।
জীবনের প্রাপ্তি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড়পক্ষ ও কনেপক্ষ সবাই সম্মান করে এইডাই বড় পাওয়া।
ঘটকালি পেশার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে গরিব থেকে বড়লোক সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে যেতে চান নিজেকে ‘সফল’ দাবি করা ঘটক কাসেম সানা।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৮ ঘণ্টা, মে ০৬, ২০১৭
এমআরএম/জেডএস