শনিবার (০৬ মে) রাতে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা যাচ্ছেন। ফেরি এনায়েতপুরীতে বসেই আলাপ হয় তার সঙ্গে।
তার পিকআপ ভ্যানের ভাড়া ৭৩০ টাকা। কিন্ত এদিনও দেড় হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কেন দিলেন বাড়তি টাকা? প্রশ্ন করতেই খানিকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, আপনার কি মনে হয় আমার টাকা বেশি হয়েছে!
সন্ধ্যায় এসেছি দৌলতদিয়া ঘাটে, কিন্তু সিরিয়াল পাইনি। ঘাট ফাঁকা তবুও আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি একটি ফেরি ফাঁকা গেছে তবুও যেতে দেয়নি।
হাসান আক্ষেপ নিয়ে বলেন, এইটা একটা ভিন্ন রকমের জায়গা, এখানকার মাটিও টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না। পদে পদে টাকা না দিলে আপনার রক্ষা নেই।
বৃটিশদের তৈরি করা ফেরি এনায়েতপুরী, চারটি বাস, ট্রাক ছয়টি, ছয়টি প্রাইভেটকার, পিকআপ ভ্যান চারটি ও দু'টি আম্বুলেন্স পার করছিল।
আরেক পিকআপ ভ্যানের চালক সেলিম মিয়া, একটি মোটরসাইকেল তুলে ঢাকা রওনা দিয়েছেন। তার কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয়েছে ১২০০ টাকা। তাকে যে রশিদ দেয়া হয়েছে, তাতে ৭৩০ টাকা লেখা।
টাকার অংক ছাড়াও রশিদে আরো লেখা রয়েছে, দেশ প্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন। অথচ এই রশিদ দিয়ে যাচ্ছে তাই করা হচ্ছে।
ট্রকের ভাড়া এক হাজার ৬০ টাকার জায়গায় নিয়েছে ১৭০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি যানবাহনের কাছ থেকেই বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি, আম্বুলেন্সও রক্ষা পায়নি তাদের হাত থেকে। আম্বুলেন্স এর কাছ থেকেও একশ' টাকা বেশি আদায় করেছে।
এসব কাহিনী দৌলতদিয়া ঘাটের। পাটুরিয়া ঘাটের অবস্থাও একই। ফেরি মাধবীলতায় পার হওয়ার সময় কথা হয় ট্রাকচালক মিঠুর সঙ্গে। তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিয়েছে পাটুরিয়া ঘাটের দালালরা। বাড়তি টাকা দিয়ে তবেই মিলেছে ফেরিতে ওঠার টিকেট।
এমনকি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন চালকরা। এর খানিকটা সত্যতাও মিলেছে শনিবার রাতে ঘুরে। ঘাটের ভোগান্তি নিয়ে আরো ঘটনা দেখতে চোখ রাখুন বাংলানিউজে।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৩১ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৭
এসআই /এসআইএস