রোববার (০৭ মে) ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত 'জাতীয় অর্থনীতিতে আবাসন খাত' শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
তিনি বলেন, আমি একটা উদ্যোগ নিয়েছি, আপনারা দোয়া করবেন, জানি না কতদূর সফল হবো।
‘সাড়ে পাঁচশ’ স্কয়ার ফুটের টু বেড রুম, ওয়ান ড্রয়িং রুম, কিচেন, টয়লেট একটা আলাদা এবং গোসলখানা আলাদা এভাবে করছি। ১৬-১৮ তলার হাইরাইজ বিল্ডিং করব। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ দু’টো লিফট মেইনটেইন করবে। ’
মন্ত্রী বলেন, আমি হিসাব করে দেখেছি, প্রতিদিন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া হবে ২৭০ টাকা। সেখানে যে লোকগুলো থাকবে অন্তত সেখানে ৪-৫ জন ইনকাম গ্রুপ থাকবে। তারা ইজিলি এটা পে করতে পারবে। আমি এটা শুরু করতেছি। প্রাথমিকভাবে ৫০০ করতেছি, আমার টার্গেট হলো ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট করা। ১০ হাজার করলে সেখানে অন্তত ২০ হাজার পরিবারকে তুলতে পারবো বলে আশা করছি।
সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বে থাকাকালে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সে সময় সোনারগাঁওয়ের পেছনের বস্তিবাসীদের মিরপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। দেখলাম, আমাদের হাউজিং ইন সেটেলমেন্ট ডিপার্টমেন্ট যেটা আছে এটার ফাংশন কী? দেখলাম যে ইঞ্জিনিয়াররা রাবার দিয়ে মুছে একটা প্লট একজনকে দেয়, আর একটা মুছে আর একজনকে দেয়। দেখলাম পুরা একটা দুর্নীতির আখড়া। এক কাঠা, আধা কাঠা, এরকম করে দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করলাম, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করলাম। সরকারি জায়গার উপর হাইরাইজ বিল্ডিং করব এবং সহনীয় প্রাইজে জনগণকে অ্যাপার্টমেন্ট দেব। পরিকিল্পিত আবাসিক এলাকা করব। ইতোমধ্যে আমরা ৩০টি উপজেলায় করতে সক্ষম হয়েছি।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনেকগুলো হাউজিং করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬-৭ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট করেছি। সবার জন্য আবাসন হবে, কেউ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য প্রকল্পগুলোতে গৃহহীনদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঝিলমিল, পূর্বাচল ও উত্তরা থার্ড ফেজেও রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরা থার্ড ফেজে ১৫ হাজারের মতো অ্যাপার্টমেন্ট। এরমধ্যে ছয় হাজার ৬৩০টি হয়ে গেছে। ১৩ হাজার অ্যাপার্টমেন্টস পাস হয়েছে, সেগুলো ঝিলমিলে শুরু হবে। লেকের উপরে খুব সুন্দর। পূর্বাচলে বিভিন্ন জায়গায় লেকের পাড়ে খালি জায়গায় মাটি পারমিট করলে এক লাখ অ্যাপার্টমেন্ট করতে পারব। সব অ্যাফর্টেবল প্রাইজে দেব।
তিনি বলেন, আগামীতে রাজউক, সিডিএ যতো প্লট আমরা যেগুলো নেব, সবগুলোই হাইরাইজ বিল্ডিং। সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স হবে। বড় লোকও থাকবে, গরীবও থাকবে। পূর্বাচলে আমরা ডরমেটরিজ করব। গরীবদের জন্য সেখানে জায়গা রেখেছি। সেখানে যারা কাজ করবে, ড্রাইভার এবং কাজের বুয়া তারাও যেন দূরে আসতে না হয়। আমরা ছোট ছোট বাসা করে দেব।
মন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক না- রাজউক, সিডিএ অবলুশ হয়ে যাক। পাশাপাশি থাকলে ভাল। আমি জোর গলায় বলতে পারি, রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ- যেভাবে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা করে, প্রাইভেট ডেভলপাররা সেটা করে না। তারা সেখানে লেক জলধারা রাখে না, প্রাতিষ্ঠানিক প্লট- স্কুল, ইউনিভার্সিটি, খেলার মাঠ রাখে না। পার্ক রাখে না। তাহলে সেটা আবাসিক এলাকা হলো না। সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ এটা রাখে বাধ্যতামূলক করে।
মন্ত্রী জানান, আপনারা অবাক হয়ে যাবেন পূর্বাচলে ৪৮ কিলোমিটার ম্যান মেইড লেক, প্রাইভেট হলে রাখতো না, নেভার। উত্তরা তৃতীয় ফেজে সাড়ে আট কিলোমিটার লেক রেখেছি। আড়াইশ ফুট প্রশস্ত। অনুরোধ করব উত্তরা তৃতীয় পর্ব দেখে আসতে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা, জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল আলম মহিউদ্দিন, রাজউকের সাবে চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৭
এমআইএইচ/এসএইচ