হঠাৎপাড়ার আস্তানায় দুই জঙ্গির মরদেহ পড়ে রয়েছে। তাদের একজন আত্মঘাতি বোমায় ও অপরজন গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হঠাৎপাড়ার আস্তানায় অভিযান শেষ হয়নি। সেখানে এখনো ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছালে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে, এমনটাই জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দিদার আহমেদ।
তিনি জানান, জঙ্গি রয়েছে এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মহেশপুরের বজরাপুর হঠাৎপাড়ায় এবং রোববার (০৭ মে) সকালে সদরের লেবুতলায় দুটি আস্তানা ঘিরে ফেলা হয়।
সকালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা হঠাৎপাড়ায় অভিযান শুরু করে। সেখানে অভিযানকারীদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় হয়। আস্তানার ভেতরেও বিকট শব্দে বিষ্ফোরণ ঘটে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই বাড়ি ও তার আশপাশের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশাফুর রহমান। সূত্র জানায়, সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষার্থে রোববার (০৭ মে) সকাল ১০টার দিকে জারি করা এ ১৪৪ ধারা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বজরাপুর হঠাৎপাড়ার আস্তানা পরিদর্শন শেষে ডিআইজি দিদার সাংবাদিকদের জানান, অভিযানকালে এক জঙ্গি গুলিতে নিহত হয়েছে, অপরজন সুইসাইডাল ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গুলিবিদ্ধ মরদেহটি তুহিন নামে এক জঙ্গির বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এই অভিযানে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানান পুলিমের খুলনা রেঞ্জের এই উপ-মহাপরিদর্শক ।
এ সময় তিনি আরো জানান, সদর উপজেলার ১৮ মাইল এলাকার লেবুতলা গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ হয়েছে। সেখান থেকে আটটি বোমা, একটি নাইন এমএম পিস্তলসহ দুই জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে।
দিদার বলেন, ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যদের ডাকা হয়েছে, তারা এসে হঠাৎপাড়ার আস্তানার ভেতরে থাকা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করলে সেখানে অভিযান সমাপ্ত করা হবে।
লেবুতলা গ্রামের জঙ্গি আস্তানাটি যে বাড়িতে তার মালিক শরাফত হোসেন নামে এক ব্যক্তি। হঠাৎপাড়ার বাড়িটির মালিক জহুরুল ইসলাম।
বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম উদ্দিন, ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে এসপি মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, হঠাৎপাড়ায় অভিযান চালানোর সময় সিসিটিসি’র এডিসি এস এম নাজমুল ইসলাম, উপ পরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী এবং মজিবুর রহমান আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহসিন ও মজিবুর গুলিবিদ্ধ। এদের মধ্যে নাজমুল ও মহসিনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর মজিবুরকে যশোরে পাঠানো হয়েছে।
পনের দিনের ব্যবধানে ঝিনাইদহে এই জঙ্গি অভিযান পরিচালিত হলো। এর আগে গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাবা। ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়। তবে কোনো জঙ্গি সে অভিযানে হতাহত হয়নি কিংবা আটক করা যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩১ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৭
এসএইচ/এসআই/এমএমকে