যাদের মধ্যে প্রথমজনের বাসা রাজধানীর গুলশান-২, দ্বিতীয়জনের বাসা মিরপুর, তৃতীয়জনের বাসার ঠিকানা না থাকলেও তাদের মালিকানায় তেজগাঁওয়ে একটি নামকরা রেস্টুরেন্টের রয়েছে। যাকে দুই ছাত্রীর বন্ধু বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চার ও পাঁচ নম্বর আসামি হচ্ছেন প্রথমজনের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী।
পাঁচ আসামি হলেন- সাফাত আহমেদ (২৬), নাঈম আশরাফ (৩০), সাদমান সাকিফ (২৪), শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল (২৬) ও অজ্ঞাতনামা দেহরক্ষী।
বনানী থানায় দায়ের করা মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী তার বান্ধবীর বয়স উল্লেখ করেছেন ২৩ বছর। দুই ছাত্রীর বাসার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে গুলশানের নিকেতন।
এজাহারে বলা হয়, ‘আসামিরা ২৮ মার্চ রাত ৯ টা থেকে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বনানীর দ্য রেইন ট্রি’ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আমাকে, আমার বান্ধবী এবং এক বন্ধুকে আটকে রেখে সবাইকে মারধর করে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করে। ’
‘আমাকে ও আমার বান্ধবীকে রুমের মধ্যে জোরপূর্বক নেশাজাতীয় মদ্যপান করিয়ে আমাকে এক নম্বর আসামি এবং আমার বান্ধবীকে দুই নম্বর আসামি জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। ’
‘তিন নম্বর আসামি সাকিফকে দুই বছর ধরে চিনি। তার মাধ্যমে এক নম্বর আসামির সঙ্গে পরিচিত হই। গত ২৮ মার্চ তার জন্মদিন উপলক্ষে এক নম্বর আসামির গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকে পাঠিয়ে আমাদেরকে নিকেতন থেকে বনানীর রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। ’
হোটেলে ছাদে বড় অনুষ্ঠান হবে বলে আমারদেরকে নেওয়া হয়েছিলো উল্লেখ করে ওই ছাত্রী এজাহারে বলেন, ‘যাওয়ার পর ওরা ছাড়া আর কোনো লোক দেখি নাই। পরবর্তীতে জোরপূর্বক ধর্ষণের সময় গাড়িচালককে ভিডিও করতে বলে সাফাত। ’
‘ঘটনার প্রতিবাদের কথা বললে নাঈম আমাকে মারধর করে। পরবর্তীতে আমাদের বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়েছিলো আমাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। এতে ভয় পেয়ে যাই এবং লোক লজ্জা ও মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করতে বিলম্ব হয়। ’
এদিকে দুই তরুণীর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে এবং তিন নারী চিকিৎসকসহ মোট পাঁচজনকে নিয়ে রোববার (০৭ মে) দুপুরে এ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে দুই নারী পুলিশ সদস্য ওই দুই তরুণীকে পরীক্ষার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসেন। তরুণীদের মাইক্রোবায়োলজি, রেডিওলজি ও ডিএনএ পরীক্ষাগ করা হবে। ১৫-২০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে আশা করছি।
মামলার বিষয়ে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন বাংলানিউজকে জানান, সাফাত ও নাঈম দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তারা ওই দুই তরুণীর বন্ধু। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত করে হোটেলে নেওয়ার পর সাফাত ও নাঈম একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর ওই দুই তরুণীকে আটকে রেখে মারধর করেন এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। বাকি তিন আসামি ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারণ করেন।
সাফাত আহমেদ একটি নামকরা জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, মে ৭,২০১৭
ইএস/পিএম/জেডএম