ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

ইপিজেড শ্রম বিল প্রত্যাহারের সুপারিশ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৪ ঘণ্টা, মে ৭, ২০১৭
ইপিজেড শ্রম বিল প্রত্যাহারের সুপারিশ

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: আইএলও পরিপন্থি ধারা থাকায় এবং বিদেশি কূটনীতিকদের দেয়া প্রস্তাবের সঙ্গে দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও সরকার সংশ্লিষ্টদের মতের মিল না হওয়ায় দীর্ঘ এক বছর পর বহুল আলোচিত বিল ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬’ সংসদ থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
 

কমিটির পক্ষ থেকে আইএলও কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিলটি প্রণয়ন করে তা পুনরায় সংসদে উত্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।
 
রোববার (৭ মে) রাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু উত্থাপিত বিলের রিপোর্টে এ সুপারিশ করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিলটি সংসদ উত্থাপন করেন।

ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে বিধান প্রণয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনের লক্ষ্যে আনীত এ বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি সাব কমিটিও গঠন করা হয়। সাব কমিটি দু’টি ও মূল কমিটি ৬ দফা বৈঠক করেও বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যে কারণে বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অতীতের নিয়ম ভেঙে বিলটিতে পোশাক শিল্পের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিদেশি দেশগুলোর বাংলাদেশে অবস্থানকারী কূটনীতিদের কমিটি বৈঠকে মতামত দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এর আগে বিলটি সংসদে উত্থাপনের পরই এর ওপর মতামত দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, কানাডার হাইকমিশন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অরগানাইজেশন (আইএলও)। পরে কমিটির বৈঠকে তারা প্রতিনিধি পাঠান এবং বিলের ওপর মতামত দেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কর্মকর্তা ডেভিট মাইকেলকে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে টেকসই গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে বৈঠকে তিনি বলেন, ইপিজেড শ্রম বিলটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বিলে আইএলও সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সঠিকভাবে বিবেচিত হয়নি। তিনি স্টেক হোল্ডার ছাড়াও লেবার ইউনিয়ন এবং শিল্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেন। এছাড়াও আইএলও’র পরামর্শ অনুযায়ী ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত করার সুপারিশ করেন। বৈঠকে আইএলও এবং কানাডীয় প্রতিনিধিরাও একই পরামর্শ দেন।
 
সূত্র জানায়, বিলের ওপর দেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হয়। মতামত দেন মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই। কিন্তু সবার মতামতের পর বিলটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। যে কারণে বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে কমিটি। আর ১৫ দিনের জন্য কমিটিতে পাঠানো হলেও এক বছর ১৫ দিন পর সংসদে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু।
 
সংসদে উত্থাপিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, কমিটি বৈঠকে বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে আলোচনায় ইপিজেডগুলোতে বিভিন্ন শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অবারিত সুযোগ ও অঞ্চলগুলোর বাইরে অবস্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর ফেডারেশনের সঙ্গে অঞ্চলগুলোর শ্রমিক ফেডারেশনের যোগাযোগ স্থাপনে বিধি-নিষেধ না রাখার বিষয় প্রাধান্য পায়। বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বিলটিতে এর কনভেনশনের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। তাই প্রস্তাবিত আইনটি আরও শ্রমিক ও বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে।
 
এদিকে, সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়, ইপিজেডে অবস্থিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ৩০ ভাগ শ্রমিককে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ সমিতি করার পক্ষে ভোট দিলে সমিতি অনুমোদন পাবে। এ সমিতি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর-কষাকষির এজেন্ট হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা আইএলও কনভেনশনের পরিপন্থি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
 
বাংলাদেশ সময়: ০০৫৩ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।