বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিরপুরের বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহীদ উদদৌলা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে সন্ধান না পাওয়ায় শুক্রবার (৫ মে) বিকেলে তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বড় ভাই শফিক উদদৌলা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় হওয়ায় শনিবার (৬ মে) দুপুরে নতুন করে ওই থানায় আরেকটি জিডি করেন তিনি।
শিল্পাঞ্চল থানায় জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে যে জিডি করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাকিং করে জানা যায়, তার সর্বশেষ অবস্থান ছিলো রমনা থানা এলাকায়। এখন তার কল লিস্টের নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে কার সঙ্গে কি আলাপ হয়েছিলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কখন বের হয়েছেন বা তার সঙ্গে কেউ ছিলো কি না এসব দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যাম্পাস থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মিরপুরের পল্লবী বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল-০১৭৬০২৫১৭৪৭ নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হামিদ রহমান খান বাংলানিউজকে বলেন, তিন বছর ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বৃহস্পতিবার তিনি যথারীতি এসেছেন, ক্লাসও নিয়েছেন। শুনেছি ক্লাস শেষ করে বিকেলে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। শিক্ষকরা আসেন ক্লাস নেন চলে যান, পড়ানোর বাইরে কে কি করছে এসব দেখার সময়টা কই বলেন? তবে তার বিষয়ে কখনোই সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাইনি। কারো মনে যদি কিছু থেকে থাকে সেটাতো আর আমরা জানি না।
নিখোঁজের বড় ভাই এবিএম শফিক উদদৌলা বাংলানিউজকে জানান, শহীদ উদদৌলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাস করেন। তিন বছর ধরে তিনি আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজনীতি করেন না। কিন্তু সন্দেহজনক কোনো কিছু তার মধ্যে ছিল না।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাউকেই সন্দেহ করতে পারছি না। জানা মতে তার সঙ্গে কারোই পূর্ব শত্রুতা নেই। প্রথমে আমরা ধারণা করেছিলাম মলম পার্টি তুলে নিয়ে গেছে, কিন্তু পুলিশ বলেছে এ ধরনের কোনো আলামত এখনো পাওয়া যায়নি।
কেউ ফোন দিয়ে এখনো কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি বলেও জানান তিনি।
তেজগাঁও থানায় জিডির বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শহীদ উদদৌলা নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় একটি জিডি করা হয়। এরপর থেকে বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৪৩ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
পিএম/আরবি/