ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২০ ঘণ্টা, মে ৭, ২০১৭
পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দৌলতদিয়া ঘাট/ ছবি: দীপু মালাকার-ব‍াংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফিরে: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার ভাঙনে সবগুলো ঘাট বিলীন হয়ে গত বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১৫ দিন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। নতুন করে ঘাট নির্মাণ করা হলেও ভাঙন রোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এবারও পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ঘাট এলাকার ভাঙন রোধের জন্য বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছে না তারা।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন নদী পার হয়। ২০১৬ সালের জুন-জুলাই মাসে দৌলতদিয়ার সবক’টি ফেরিঘাট একে একে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। দৌলতদিয়া ঘাট/ ছবি: দীপু মালাকার-ব‍াংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমদৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এবারও বর্ষা মৌসুমে গত মৌসুমের চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও ফেরি সংশ্লিষ্টরা।

ঘাটের মুদি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, আর একমাস পরই বর্ষা মৌসুম। ঘাট সংশ্লিষ্ট ভাঙন রোধে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে গত বছরের মতো বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফেরি চলাচল।

অভিযোগ উঠেছে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হওয়ার পর কোটি কোটি টাকা খরচ করে সাময়িকভাবে ঘাট চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যায়, অপরদিকে মানুষের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলে না।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌর চন্দ্র সূত্রধর বাংলানিউজকে বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করেছি। এ বছর এখনও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দৌলতদিয়া ঘাট/ ছবি: দীপু মালাকার-ব‍াংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমদৌলতদিয়া ঘাটে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় তীব্র স্রোত দেখা দেয়। এতে ফেরিঘাটগুলো হুমকির মুখে পড়ে। তবে গত বছরের ভাঙনের ভয়াবহতা যে রূপ ধারণ করেছিল তা এর আগে কখনো হয়নি। বছর দুই আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সামনের এলাকায় বিশাল চর ছিলো। এ চরের কারণে ভাঙনের হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পেয়েছিল দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। ওই চরটি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পদ্মার তীব্র স্রোত সরাসরি ফেরিঘাটে আঘাত হানে। এতে দৌলতদিয়া ফরিঘাটগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমের তীব্র স্রোতে সরাসরি ফেরিঘাটে আঘাত হানায় ওই সময় ঘাট পন্টুনে ঠিকমতো ফেরি ভিড়তে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেরিঘাটে কাজ করে এমন চার কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদের কাজ হচ্ছে যেকোনো প্রতিকূলতার মধ্যে ঘাট চালু রাখা। এর জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ সমন্বয়। কিন্তু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সরকারের এ চার সংস্থার কাজের তেমন কোনো সমন্বয় নেই বললেই চলে।

দৌলতদিয়া ভাঙনের বিষয় বিবেচনা করে গত বছর ঘাট পরিদর্শনে এসে সুবিধাজনক স্থানে নতুন ঘাট নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়হীনতায় নতুন ঘাট নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রীতায় পড়ে সময় ক্ষেপন হয়ে থাকে। দৌলতদিয়া ঘাট/ ছবি: দীপু মালাকার-ব‍াংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমদৌলতদিয়ার ফেরিঘাটের সংযোগ রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। নদী তীর সংরক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফেরি পন্টুন ও ঘাট সংস্কারের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ’র। এ তিন বিভাগের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক সমন্বয়হীনতা। ফেরি পরিচালনার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিসির।

বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বাংলানিউজকে জানান, দৌলতদিয়ায় নতুন ফেরিঘাট নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। আশা করি চলতি মাসে এ ব্যাপারে দরপত্র আহ্বান করা হবে। বর্ষা মৌসুমের ভাঙনে বিষয়টি মাথায় রেখে ফেরিঘাট সংরক্ষণের জন্য নেয়া সিদ্ধান্ত দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন ঘাট নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ এবং এপ্রোস সড়ক তৈরি করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সময়: ০৪৫৫ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসই/বিএসকে/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।