প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। কোথাও একটুখানি স্বস্তি মিলছে না।
কর্মজীবী মানুষগুলোর বসে থাকারও উপায়ও নেই। তীব্র গরমে অতীষ্ট মানুষ স্বস্তি পেতে ছুটছেন প্রাণজুড়ানো ঠাণ্ডা পানির সন্ধানে। তারা পান করছেন ডাবের পানি। আখের রস। বিভিন্ন ফলমূলের শরবত। খাচ্ছেন তরমুজ। তবে ডাবের পানি ও ফলমূলের শরবতের দিকেই মানুষের ঝোঁকটা বেশি।
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থান নেওয়া ভ্রাম্যমাণ ডাবের দোকানি আলমগীর হোসেন ও শরবতের দোকানি ইউসুফ আলীর দোকানে ক্রেতা সাধারণের ভিড় দেখেই সেটা বোঝা গেল।
ভ্যানের ওপর দোকান বসিয়েছেন আলমগীর হোসেন। শহরের সাত রাস্তার এক রাস্তার পাশে ভ্যান রেখে তার ওপর বসেছেন তিনি। ডাবের বোঝাগুলো ভ্যানের ওপর রেখেছেন।
ভ্যানে বসেই ডাবের পানি পান করতে হাঁকডাঁক ছেড়ে বলছেন, ‘এই যে ভাই এদিকে আসেন। ডাব খান। প্রাণ জুড়ান। এই গরমে ডাবের পানি আপনাকে আরাম দেবে। শরীর ভাল রাখবে। মনে প্রশান্তি এনে দেবে। ’
সম্ভাব্য ক্রেতারাও তাকে অনেকটা ঘিরে ধরেছেন। ক্রেতার অর্ডার পেয়েই ধারালো দায়ের কোপ বসাচ্ছেন ডাবের মাথায়। ডাবের মুখ ফুটো করেই ডাব ও প্লাস্টিকের নল ধরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতার হাতে।
পান শেষ হলে ডাব চিরে ফেলছেন। শ্বাসমূল থাকলে আবার সেই ডাবটি ক্রেতার হাতে দিচ্ছেন। মনে সুখে শ্বাসমূল খেয়ে নিচ্ছেন ক্রেতা।
প্রায় এমনই ভিড় দেখা গেল ইউসুফ আলীর শরবতের দোকানে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারী ক্রেতাদেরও দেখা মিলল। তারা অর্ডার দিয়ে লেবু, বেলসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের শরবত পান করছেন গরম থেকে বাঁচতে।
শহরের সামবাড়িয়া এলাকায় বসবাস করেন আলমগীর হোসেন। বাবার নাম সাজু মিয়া। স্ত্রী রোজি বেগম। একমাত্র মেয়ে আঁখি। ব্র্যাক স্কুলে পড়ে।
ছোটখাটো সংসার হলেও অভাব রয়েছে সেখানে। দিনমজুরি থেকে শুরু করে ছোটখাটো বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবন চালান। প্রত্যেক গরমে ডাবের ব্যবসা করেন। এবারো ঠিক তেমনটাই করছেন।
আলমগীর হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডাব কেনেন। নিজেই গাছ থেকে ডাব পাড়েন। এরপর ভ্যানযোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে সেই ডাব বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল নাগাদ তার এ ব্যবসা চলে।
তিনি জানান, দিনে ৬০টির মত ডাব বিক্রি করা যায়। ছোট-বড় ভেদে একেকটি ডাব ৩০-৬০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। এভাবে দিনে প্রায় ৫০০-৬০০টাকা আয় হয় তার। এ আয়ে চলে তার সংসার।
ইউসুফ আলী বাংলানিউজকে জানান, প্রত্যেক গরমের সিজনে শরবতের ব্যবসা করেন তিনি। অফসিজনে অন্য ব্যবসা করেন। এ ব্যবসা থেকে দিন শেষে তার মোটামোটি ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের হর্টিকালচার সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে জানান, ডাবের পানি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। প্রচুর প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে ডাবের পানিতে। এই পানি ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে। পানিশূন্যতা পূরণ করে শরীরের।
তিনি আরো জানান, একটি ডাবের পানিতে চারটি কলার সমান পটাশিয়াম থাকে। স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় এই পানি। ডাবের পানিতে পটাশিয়াম ছাড়াও সোডিয়াম এবং শর্করা রয়েছে। ডাব শরীরের নানা পুষ্টি সরবরাহ করে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।
কৃষিবিদ আব্দুর রহিম আরো জানান, ডাবের পানি ত্বক সুন্দর রাখতেও সাহায্য করে। এই পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়। লোমকূপগুলোতে জমে থাকা ময়লা উঠে যায়। এতে চেহারায় উজ্জ্বলতা বাড়ে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৭ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এমবিএইচ/জেএম