এ উপলক্ষে সোমবার (০৮ মে) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, গত বছরের ১ আগস্ট প্রথমবারের মতো খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহযোগিতায় এ বিভাগে ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
আগামী ২০ মে’র মধ্যে খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দেওয়ার এবং যাকাত বা দানের টাকা ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ডে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি পেশাদার বা ব্যবসায়ী ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান খুলনা জেলায় ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৯৭ জন ভিক্ষুক সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৩ জন ভিক্ষুককে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও রেশনিংয়ের আওতায় পুনর্বাসিত করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন এবং ৩১ জন উপকরণ সামগ্রী নিতে আসেননি।
ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি ফান্ডে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সংগঠন, সমিতি, এনজিও ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৭ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। যা থেকে ৭২ লাখ ১ হাজার ৫৮৫ টাকা পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৯ টাকা দিয়ে পরবর্তীতে এ কার্যক্রম চালু থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. গিয়াস উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হাবিব ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২৯ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এমআরএম/আরআর/জেডএস