আর এ উদ্দেশ্য সফল করতে অধ্যাপক এবিএম শহীদ তিনজনকে সহযোগিতা করছিলো। আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় প্রবেশ কঠিন বিধায় অধ্যাপক শহীদ তাদেরকে বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে পাসপোর্ট ভারি করতে পরামর্শ দেন।
সোমবার (০৮ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
এর আগে রোববার (০৭ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) দাওয়াতি বিভাগের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি ইউনিট। এদের মধ্যে একজন আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবিএম শহীদ উদ-দৌলা সোহেল। তিনি গত ৪ মে তেজগাঁও থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
অন্যরা হলেন- আহাদুল ইসলাম সাগর, জগলুল হক মিঠু এবং মো. তোয়াসিনা রহমান।
এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ২টি নোটবুক, ২টি মোবাইল ফোন, ১টি পাসপোর্ট, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের অনুবাদ গ্রন্থ ‘মানহাজের ব্যাপারে নির্দেশনা’ এবং শাইখ আনোয়ার আল আওলাকি অনুবাদ গ্রন্থ ‘এ যুদ্ধ কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে’ উদ্ধার করা হয়।
সিটিটিসি’র প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক শহীদ অর্গানাইজার হিসেবে বাকিদের সিরিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন। বিদেশে থাকা এবিটি’র বিভিন্ন পলাতক সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো। তবে এবিটি’র সমন্বয়ক মেজর জিয়ার সঙ্গেও তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না। মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যম আছে বলেও এই তিনজনকে বলেছে।
তিনি বলেন, এবিএম শহীদ উদ দৌলা আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনিসহ বাকি আসামিরা দাওয়াতি শাখার পাশাপাশি ব্লগারদের হত্যার পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলো।
তিনি বলেন, পলাতক জঙ্গি হাসান ওরফে রেজার মাধ্যমেই ২০১৪ সালে তারা এবিটিতে যোগদান করেন। এরপর বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছে। তারা সবাই টেলিগ্রাম অ্যাপস ও একটি বিশেষ মেইলের (Tutanota mail) মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতো।
মনিরুল ইসলাম বলেন, আহসানউল্লাহর শিক্ষকের জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়ানোর তথ্য আগে থেকেই সিটিটিসি’র কাছে ছিল। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়। সম্ভবত গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান।
সিটিটিসি’র সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে রোববার রাতে তাকে গ্রেফতার করে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গত ৪ মে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবিএম শহীদ উদ দৌলা’র (৩২) সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন তার স্ত্রী। জিডি নম্বর ২৮০।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২২ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসজেএ/জেডএস