ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

বন্ধুর বাবাকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিতো ‘ধর্ষক’ নাঈম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩২ ঘণ্টা, মে ৯, ২০১৭
বন্ধুর বাবাকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিতো ‘ধর্ষক’ নাঈম

ঢাকা: রাজধানীর বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তদের একজন নাঈম আশরাফ (৩০)। তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের এক বড় নেতার ছেলে বলে দাবি করেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের ঐ বড় নেতা তার বন্ধুর বাবা।

গত ২৮ মার্চ বনানীর ওই রেস্টুরেন্টে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে নাঈম আশরাফ দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে শনিবার (৬ মে) বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীদের একজন।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভুক্তভোগী ওই তরুণীর দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামি হলেন সাফাত আহমেদ(২৬), নাঈম আশরাফ(৩০), সাদমান সাকিফ (২৪), শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল(২৬)ও অজ্ঞাতনামা এক দেহরক্ষী।

মামলা দায়েরের পর শোনা যাচ্ছিল, অভিযুক্তদের একজন ক্ষমতাসীন দলের এক বড় নেতার ছেলে। দ্য রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ওঠার সময় নাঈম ওই পরিচয় ব্যবহার করেন।

ওই রেস্টুরেন্ট সূত্রে জানা যায়, নাঈম ভাড়া নেওয়ার সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ তার ভিজিটিং কার্ড ও মোবাইল নম্বর রাখে। যা দেখে জানা যায়, নাঈম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জড়িত।

নাঈমের কর্মস্থলের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলানিউজকে জানান, নাঈম আশরাফ ক্ষমতাসীন দলের এক বড় নেতার ছেলে বলে বিভিন্ন সময় পরিচয় দিতেন। অথচ তিনি ওই নেতার ছেলের বন্ধু। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। নাঈমের সঙ্গে মিডিয়াকর্মী অনেক তরুণী সম্পর্ক থাকারও গুঞ্জণ রয়েছে। তবে, তার বাবার বিস্তারিত নাম পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের সূত্র ধরেই আরেক অভিযুক্ত সাদমান সাকিফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সাদমান ওই দুই তরুণীর পূর্ব পরিচিত ও সাদমানের মাধ্যমেই ধর্ষক সাফাত ও নাঈমের সাথে তাদের পরিচয় হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত সাদমান সাকিফও ভুক্তভোগী দুই তরুণীর কাছে নিজের পরিচয় গোপন করেন। তাকে পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিকের ছেলে বলে মামলায় উল্লেখ করা হলেও আসলে তার বাবা মো. হোসাইন জনি রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাদমান নিজেও ওই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরদের একজন। বিষয়টি নিশ্চত হতে রেগনাম গ্রুপের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন জনি এবং ডিরেক্টর সাদমান সাকিফের বার্তা রয়েছে।

জানা যায়, তার বাবা হোসাইন জনি একসময় জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজ করতেন, পরে যুবদলের রাজনীতিও করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিকাসো রেস্টুরেন্টের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ম্যানেজার সুমন বাংলানিউজকে জানান, একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সাদমান পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক সেনাকর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। তেজগাঁওয়ে রেগনাম সেন্টারের লেভেল ভাড়া নিয়ে পিকাসো রেস্টুরেন্ট কার্যক্রম চালাচ্ছে। পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক মাসুদ উদ্দিনের ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।

এদিকে, অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক। সাফাতের প্রথম স্ত্রী বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা ছিলেন। কিন্তু এবিয়ে তার পরিবার মেনে নেয়নি। দুই মাস আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর পরিবারের পছন্দে সাফাত দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এমন কাজ করেছেন তার ছেলের সাবেক স্ত্রী।

হোটেল কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ একমাসের ফুটেজ সংরক্ষণ করে, তাই সেদিনের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার (ডিসি, উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, এরই মধ্যে ডিবির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়িট নিয়ে পুলিশের ক্রাইম টিমের পাশাপাশি আমরাও কাজ করছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৭ ঘণ্টা, মে ০৯, ২০১৭
পিএম/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।