ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

কাজিপুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সেবিকাকে হত্যা করা হয়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৪৩ ঘণ্টা, মে ৯, ২০১৭
কাজিপুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সেবিকাকে হত্যা করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান ও সেবিকা যোবাইদা

সিরাজগঞ্জ: পরিচ্ছন্নতা কর্মী লাকী খাতুনকে প্রতিনিয়ত বকাঝকা, গালিগালাজ এবং চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান। 

আর এ থেকেই ক্ষোভ জন্ম নেয় লাকী খাতুনের মনে। ক্ষোভ থেকে প্রতিহিংসা-যা এক পর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনায় রূপ নেয়।

অবশেষে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান লাকী।  

মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানালেন পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।  তোমছের আলী ও স্থানীয় কবিরাজ আশরাফ আলী শেখ ওরফে আছাব

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী লাকী উপজেলার বেরিপোটল গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। তাকে গ্রেফতারের পর তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে লাকী হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, তার পরকিয়া প্রেমিক তোমছের আলীও ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্ত্রীকে চাকরি না দেয়ায় ও তাদের আত্মীয় মনোয়ারা ওরফে চায়না খাতুনকে চাকরিচ্যুত করার পর থেকে তোমছের আলী ক্ষুব্ধ ছিলেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওপর। এরপর লাকীর সঙ্গে ওই কর্মকর্তার খারাপ আচরণের কথা শুনে তোমছের আলীও এ হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত হন।  

জিজ্ঞাসাবাদে লাকী আরো বলেন, তোমছের আলীর সঙ্গে মিলে স্থানীয় কবিরাজ আশরাফ আলী শেখ ওরফে আছাব আলীর কাছ থেকে উচ্চমাত্রার বিষ সংগ্রহ করেন তিনি। এ সময় কবিরাজ তাদের বিষ কীভাবে খাওয়াতে হবে সে পরামর্শও দেন। ২৫ এপ্রিল দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী আলমগীরের বাসা থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ চারজনের জন্য খাবার আনা হয়। খাদ্য তালিকায় ছিল ভাত, বেগুন ভাজি, কচুর লতি, কাঠালের তরকারি (এঁচর) ও বোয়াল মাছ। ওই খাবার পরিবেশনের আগে লাকী কৌশলে বোয়াল মাছের তরকারিতে বিষ মিশিয়ে দেন।  

খাবার খাওয়ার পরই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সেবিকা যোবাইদা ও প্রধান অফিস সহকারী আলমগীর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৯টার দিকে যোবাইদা ও সোয়া ১১টার দিকে ডা. মনিরুজ্জামান মারা যান।  প্রধান অফিস সহকারী আলমগীর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  

এসপি আরো বলেন, লাকী ও কবিরাজ আছাব আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কিছু বিষ পাওয়া গেছে। চিকিৎসক ও সেবিকার দেহে ও খাবারে পাওয়া বিষের সঙ্গে এর মিল রয়েছে কিনা তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।  

এর আগে শনিবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন লাকী। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  

এদিকে, লাকির দেয়া তথ্যমতে, তোমছের আলী ও বেতুয়া গ্রামের কবিরাজ আছাবকে আটক করে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার বিকেলে ওই দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তোমছের আলী উপজেলার টিকরাভিটা গ্রামের গোলাই মণ্ডলের ছেলে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৯ ঘণ্টা, মে ০৯, ২০১৭
এসআই 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।