বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকালে পাসপোর্টধারী যাত্রী নিয়ে কলকাতার শিয়ালদাহ স্টেশন থেকে ছেড়ে বেনাপোল হয়ে খুলনা পৌঁছুবে বন্ধন। বিকালে খুলনা থেকে রওয়ানা হয়ে বেনাপোল হয়েই ফিরে যাবে কলকাতায়।
আপাতত সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার লাইনে গড়াবে বন্ধন। পরে যাত্রী সাড়া বাড়লে রেল ট্রিপের সংখ্যাও বাড়বে। খুলনা থেকে রওনা হয়ে বেনাপোল রেলস্টেশন ও ভারতের শিয়ালদাহ স্টেশনে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ব্যাগেজ তল্লাশীর আনুষ্ঠানিকতা সারবে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৮ নভেম্বর) বেনাপোল বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও রেল বিভাগের কর্মকর্তারা সব তদারকি করছেন।
বেনাপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, খুলনা-কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী রেল যাত্রার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর শরীফ বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবার আনুমানিক এক ঘণ্টায় পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।
রেল বিভাগ সূত্র জানায়, ৫২ বছর আগে খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে রেল চলাচল করতো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর রুটটি বন্ধ হয়ে যায়।
যাত্রী সুবিধার কথা বিবেচনা করে গত বছর ভারত-বাংলাদেশ সরকার পুনরায় দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী রেল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৈত্রী ট্রেন ও বাসের পরীক্ষামূলক যাত্রা উদ্বোধন করেন। কিন্তু যাত্রী চলাচলের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এতোদিন অপেক্ষা করতে হয়।
যাত্রীরা বলছেন, এ রুটে মৈত্রী রেল চালুতে পাসপোর্ট যাত্রীদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এতে একদিকে হয়রানি ও ভোগান্তির হাত থেকে যেমন যাত্রীরা রক্ষা পাবে, তেমনি নিরাপদ যাত্রায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছুতে পারবে।
সড়ক পথে ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রী অনিতা দাস বাংলানিউজকে বলেন, দেশ ভাগ হলেও ভারতের সাথে এখনও অনেকের আত্মীয়ের বন্ধন রয়ে গেছে। এ কারণে স্বজদের সাথে দেখা করতে ও ভালো চিকিৎসা পেতে প্রায়ই অনেককে ভারতে যেতে হয়। ভারত থেকেও অনেকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে আসে। আর সড়ক পথে ঝক্কিও বেশী। আছে দালালদের উৎপাত। তাই এ পথে যাত্রীবাহী রেল চালু হলে সবাই উপকৃত হবে।
তবে বেনাপোল স্টেশনে টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এ প্রসঙ্গে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, যেহেতু বেনাপোল স্টেশনে যাত্রীদের পাসপোর্টের কার্যক্রম সারা হবে, তাই এ স্টেশন থেকেও এ রুটে যেতে ইচ্ছুকদের টিকিট ও যাতায়াতের সুযোগ রাখা দরকার ছিল।
বাংলাদেশ সময়: ২১১৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ৮, ২০১৭
এজেডএইচ/জেডএম