বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতা ও খুলনার মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ট্রেন ‘দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস’ বা বন্ধন এক্সপ্রেস এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।
পাশাপাশি উদ্বোধন হয় ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের ননস্টপ সার্ভিসও। ট্রেন উদ্বোধন উপলক্ষে গণভবনে স্থাপিত মঞ্চ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে দিওয়ালি ও বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, এই দু’টি ট্রেনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। বিশেষ করে এর ফলে দুই দেশের যাত্রীদের খুবই সুবিধা হবে। আমি বন্ধন ও ননস্টপ মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সফলতা কামনা করছি।
দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে ১৯৬৫ সালের পূর্বে চালু থাকা রেলরুটগুলো চালু করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ভিডিও কনফারেন্সে নিজের বক্তব্যের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে।
পাশাপাশি কালীপূজা ও দুর্গা পূজারও শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জীকে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন মোদী।
কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গর সম্পর্ক ভালো। বন্ধন ও ননস্টপ মৈত্রী এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিম বাংলা সফরের আমন্ত্রণ জানান মমতা ব্যানার্জী। পাশাপাশি দুর্গা পূজা ও কালী পূজার শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের জনগণকে।
উল্লেখ্য,খুলনা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর খুলনা-কলকাতা রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হলো। গত ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী এই ট্রেনের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করেন। বন্ধন বা দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস নামে এই ট্রেন সার্ভিস চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের ওয়ানস্টপ সার্ভিসও উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রীদের ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে যাত্রা স্টেশনেই। এ ক্ষেত্রে যারা কলকাতা যাবেন তাদের ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন এবং কলকাতা থেকে যারা বাংলাদেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কলকাতা স্টেশনেই সম্পন্ন করা হবে। ফলে মৈত্রী এক্সপ্রেসের মধ্যপথে আর কোথাও বিরতির প্রয়োজন হবে না। ট্রেনটি ননস্টপ চলাচল করবে।
এখন পর্যন্ত মৈত্রী ট্রেনের যাত্রীদের বাংলাদেশের দর্শনা ও ভারতের গেদে স্টেশনে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করতে মাঝপথে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় অতিরিক্ত খরচ হয়। বিষয়টি অনেক সময় যাত্রীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর পর এই সমস্যা আর থাকবে না।
আগের মৈত্রী টেনে ঢাকা থেকে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগতো। সেখানে ননস্টপ ব্যবস্থা চালুর পর ভ্রমণের সময় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা নেমে আসবে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বৃদ্ধিতে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ছাড়া ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে এখন সপ্তাহে ৬ দিন মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে।
বাংলাদেশ সময়: ১১৫৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৯, ২০১৭
এমইউএম/আরআই