বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হরিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বালিপাড়া ও হাউদপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী ও লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে সবাই সিলেট-তামাবিল সড়কে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে পুরো হরিপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের কারণে সিলেট-তামাবিল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও পুলিশ প্রথমে সংঘর্ষ থামামে ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়ট কারসহ শতাধিক পুলিশ ও র্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে অন্তত শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও তিনজন ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বাংলানিউজকে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দুই গ্রামবাসীর মধ্যেও আহতের সংখ্যা শতাধিক হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে শতাধিক শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। এখন ওই সড়কে যান চলাচলও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮
এনইউ/এমএ