ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করবেন না: আতিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০ ঘণ্টা, জুলাই ৩১, ২০১৯
ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করবেন না: আতিক পথসভায় বক্তব্য রাখছেন মেয়র আতিক

ঢাকা: সম্প্রতি রাজধানীতে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রকোপের ফলে হাসপাতালে ভিড়ের পাশাপাশি বেড়েছে ওষুধের চাহিদা। এই ব্যাপক চাহিদার সুযোগে ব্যবসা না করে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার অনুরোধ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করবো এই ডেঙ্গু নিয়ে কেউ কোনো ব্যবসা করবেন না। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোকে এবং ওষুধ কোম্পানিসহ ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি।

আমাদের একসঙ্গে এই ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। মানবিক কারণে আমরা সবাই যেন একসঙ্গে কাজ করি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে।  

বুধবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর গুলশান-২ সার্কেলে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।  

ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের আয়োজনে গুলশান, বারিধারা, বনানী সোসাইটি, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও থানা আওয়ামী লীগসহ প্রায় এক হাজারের বেশি স্কুল-কলেজের শিশু পথসভায় অংশ নেয়।

মেয়র বলেন, আমি অনুরোধ করবো সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য। সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে মাঠে নেমে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে। আজ যে বাচ্চারা আসছে সে বাচ্চারা তাদের পরিবার বলবে যে আমরা যেন আমাদের ঘরের আঙিনা পরিষ্কার করি। এই শিশুরা বলবে, আব্বু-আম্মু তোমার অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবা। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমি অনুরোধ করবো আপনারা সবাই আপনাদের বাসার আঙিনা পরিষ্কার করুন এখন থেকে এই মুহূর্ত থেকে।  

তিনি বলেন, আমাদের ডিএনসিসির ৪৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে পাঁচটি মাতৃসদন রয়েছে। এই ৫২টি কেন্দ্রে কিন্তু আমরা কিট দিয়ে দিয়েছি। বিনামূল্যে এসব কেন্দ্র থেকে আপনারা ডেঙ্গু টেস্ট করতে পারবেন। প্রত্যেক হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো আপনারা প্রত্যেকটি রোগীকে মশারির মধ্যে রাখুন। আমি ইতোমধ্যে চোদ্দটা হাসপাতলে মশারি পাঠিয়ে দিয়েছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শিশু হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ অন্যা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনাদের যদি লাগে আরও মশারি নেন, কিন্তু আপনাদেরও নৈতিক দায়িত্ব আছে রোগীদের মশারির ভেতর রাখার।  

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকালে আমরা সকালে লাভ্রা সাইট নামে মশা নিধনের ওষুধ ও বিকেলে অ্যা‍বরেলটি সাইট ওষুধ স্প্রে করার নির্দেশ দিয়েছি এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে। সকালের ওষুধ দিতে পাঁচজনের জায়গায় ১০ জন কাজ করবে। বিকেলেও যেটা স্প্রে করা হয় ওদেরও ডাবল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন মেশিনগুলো মোটরসাইকেলে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি মোটর সাইকেলে অলরেডি আমরা নিয়ে এসেছি। আমি সব জনপ্রতিনিধিকে অনুরোধ করবো একসঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়ুন এবং গণসচেতনতা তৈরি করুন। বিশেষ করে ঘনবসতি এলাকায় ও বস্তি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদের সবাই যেন গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।  

পথসভায় আশপাশের এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৪ ঘণ্টা, জুলাই ৩১, ২০১৯
এমএএম/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।