পুলিশ বলছে, প্রায় দুই বছর ধরেই ওই কনে স্বপ্নাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন ঘাতক সজীব। গত মার্চে সজীবের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তুলা মিয়া।
বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) মগবাজারের দিলু রোডে প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে স্বপ্নার বিয়ের আয়োজন করেন তুলা মিয়া। বিয়ের আয়োজন চলাকালীন ওই কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকে তুলা মিয়া ও তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে ছুরিকাঘাত করেন সজীব। এ সময় উপস্থিত জনতা সজীবকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ছুরিকাঘাতে তুলা মিয়া নিহত হয়েছেন এবং ফিরোজা বেগম আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আটক সজীব তুলা মিয়ার মেয়ে স্বপ্নাকে গত দুই বছর ধরেই বিরক্ত করে আসছিলেন। এ বিষয়ে গত মার্চে সজীবের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা (নং-০৮) দায়ের করা হয়েছিল। এ মামলায় সজীব গ্রেফতার হয়ে একমাস জেলও খাটেন। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার স্বপ্নার বিয়ে চলকালে উপস্থিত হয়ে তার বাবা ও মাকে ছুরিকাঘাত করেন সজীব।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, বিয়ের আসরে কনের বাবা-মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন সজীব। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ইনসাফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবা তুলা মিয়া। পরে আহত মা ফিরোজাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় কনেকে সাজানো হচ্ছিল। সে সময় সজীব ভবনটিতে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তিনি তুলা মিয়াকে দেখতে পান। তুলা মিয়া তখন সজীবের কাছে এখানে আসার কারণ জানতে চান। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। একপর্যায়ে তুলা মিয়াকে সজীব তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তার চিৎকারে ফিরোজা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন সজীব।
বাইরে চিৎকার শুনে স্বপ্না ভেতর থেকে তার কক্ষের দরজা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরে দরজা খুলে আহত বাবা-মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন কনে।
নিহত তুলা মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘাতক সজীবের বাবার নাম আব্দুল বারেক। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার পাঁচগাছিয়া গ্রামে। তিনি দিলু রোডের বাটার গলির একটি মেসে থাকতেন এবং একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন সজীব। ঘটনাস্থল থেকেই সজীবকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০১৯
পিএম/টিএ