ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

কালনা ফেরিঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ৩, ২০১৯
কালনা ফেরিঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ অবৈধভাবে ফেরিঘাট থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। ছবি: বাংলানিউজ

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাটে যানবাহনের ‘সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের’ নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না রিকশা, ভ্যানচালকরাও। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চলছে বেপরোয়া এ চাঁদাবাজি।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কালনা গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট। এ ঘাট দিয়ে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার যানবাহন চলাচল করে।

চালকদের অভিযোগ, এ পথের যানবাহনগুলো থেকে নড়াইল শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে বিরক্ত ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, পিক-আপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকরা।

তাদের অভিযোগ, নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের কথা বলে অন্যায়ভাবে ঘাটে প্রত্যেক গাড়ি থেকে ২০-৩০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

কালনা ফেরিঘাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকজন লোক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ২০-৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ সময় চালকদের হাতে ‘নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন’ লেখা সম্বলিত ২০ টাকার একটি টোকেন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশেই বসে আছেন ‘নামধারী’ কয়েকজন শ্রমিক নেতা। চাঁদা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে রেখে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ চালকদের। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ট্রাকচালক মাহাবুর রহমান অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন, এ পথে যাতায়াত করতে প্রতিবার সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনকে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের কাছে  নাজেহাল হতে হয়। এ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।

চাঁদা আদায়কারী মো. তবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি বলেন, আমি দিনমজুর হিসেবে যানবাহন থেকে নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা কালেকশন করছি। এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে পারি না।

নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক খান কালনা ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, ঘাটে সিরিয়াল মতো যানবাহন ফেরিতে ওঠাতে হয়। ফেরিতে আগে ওঠা নিয়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। যার কারণে ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য টাকা নেওয়া হয়।

জানা যায়, এই ঘাটটি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মধ্যে হলেও প্রাধান্য বিস্তার করে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন। তারাই কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড় নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদা আদায় করছে।

ঘাট মালিক মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়। তিনি কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, যারা ওপার থেকে এপারে আসেন তারাও তার কাছে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু, ওপারে গিয়ে তার কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহবান জানান মঞ্জুরুল আলম। তিনি বলেন, কোরবানির গরু নিয়ে আসা লোকজন এ সময় ব্যাপক চাঁদাবাজির শিকার হতে পারেন। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন ভূঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি ওসি সাহেবকে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো।

যোগাযোগ করলে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান কালনা ঘাটের পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া অংশে (যদিও তা কাশিয়ানী উপজেলার অংশ) ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, ওপারে আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। ওপার আমাদের মধ্যে হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে নড়াইল জেলা পুলিশ। কাশিয়ানী অংশের চাঁদাবাজি আমরা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১৯
এইচএডি/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।