শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আর্কাইভ ১৯৭১ এর উপদেষ্টা এম এ সরোয়ার এবং শহিদুল ইসলাম শাহীন। প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্কাইভ ১৯৭১ প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মুন্নী সাহা এবং প্রণব সাহা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রণব সাহা এ প্রদর্শনী নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে ঘুরেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য প্রতিভার ব্যক্তি। তিনি মানুষের কথা, দেশের কথা চিন্তা করতেন। দুর্নীতি তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। ৫২’র ভাষা আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল। আর এখন তার দর্শনগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বিভিন্ন দেশে আছেন। আর নানান দেশের আইন নানা রকম। তবে দোষীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। সঠিক দিনক্ষণ বলতে পারছি না, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের মাটিতেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হবে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রদর্শনীর ছবিগুলো দেখে সেই সময়ের স্মৃতি মনে হচ্ছিলো। এক সময় একটা চক্র বঙ্গবন্ধুকে সব জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। সেখান থেকে দেশ আজ ফিরে এসেছে। তার অনন্য এক প্রমাণ এ আয়োজন। মাত্র ২০-২২ বছরের মধ্যে একটা রাষ্ট্র গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়। অথচ বঙ্গবন্ধু তা করেছে। তিনি বাঙালিকে রাষ্ট্র দিয়েছেন। এখন বাঙালিকে বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন একটি চিত্রনাট্যের মতো, ধাপে ধাপে যার সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। তিনি এক মহাযাত্রার পথ পাড়ি দিয়েছেন, যার শেষ ছিল স্বাধীনতা।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন এক নাম, যার মতো আর কেউ হাজার বছরেও আসবে না। তার জন্যই আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। বাংলাদেশ স্বাধীন বলেই আমরা আজ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি, এগিয়ে যাচ্ছি। আর সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন প্রদর্শনী আমাদের আগামী প্রজন্মকে জানিয়ে দেবে বঙ্গবন্ধু কী ছিল।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ প্রদর্শনী দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ছুটির দিনে প্রদর্শনী শুরু হবে বেলা ৩টা থেকে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১৯
এইচএমএস/আরআইএস/