ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী

ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০১৯
জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী সেমিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যু বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে জাদুঘরে সংগৃহীত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন।

শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।

মূল প্রবন্ধে ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাসনভার গ্রহণ করেই দেশগঠনে অহোরাত্র কাজ আরম্ভ করেন। দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিগুলো হচ্ছে- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, রণসঙ্গীত নির্ধারণ করা হয়। দেশের পুনর্গঠনে সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সব অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মদ-জুয়া প্রভৃতি অসামাজিক কর্ম দমন, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন, কৃষি-শিল্পের সম্প্রসারণ, ব্যাংক-বিমা জাতীয়করণ, শ্রমিক কল্যাণসহ ১২১টি দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেন। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য লাভ। এসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন বঙ্গবন্ধু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। তিনি যখন জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকেন ঠিক সে সময়ই ১৯৭৫-এর আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে বাঙালির স্বাধীনতার ধ্বংসকামী ও মানবতার শত্রুদের হাতে নির্মম ও নৃশংসভাবে পরিবারসহ তিনি শহীদ হন। দেশ হারায় বিশ্বের এক মহানায়ককে। বাঙালি এ বীরের অসামান্য অর্জন কখনো ম্লান হবার নয়।

সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, বাঙালির আপসহীন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শুধু আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দি না থেকে চিন্তা, মনন ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তার আরাধ্য সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পী হাশেম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু তার আদর্শকে বাঙালিরা ধারণ করে এ দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর জন্য কাজ করে চলছে।

আলোচনা সভা শেষে জাদুঘরে সংগৃহীত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন, আলোকচিত্র, পেইন্টিং এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থের ওপর বিশেষ এ প্রদর্শনীটি চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১৯
এইচএমএস/আরআইএস/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।