ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

শরীয়তপুরে অপচিকিৎসায় শিশুর হাতে পচন, কবিরাজ আটক 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২০১ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০১৯
শরীয়তপুরে অপচিকিৎসায় শিশুর হাতে পচন, কবিরাজ আটক  বাম থেকে ভুক্তভোগী শিশু ও আটক কবিরাজ। ছবি: বাংলানিউজ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলায় অপচিকিৎসায় একটি শিশুর ভাঙা হাতে পচন ধরার অভিযোগে মোফাজ্জল বেপারী (৬০) নামে এক কবিরাজকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সদর হাসপাতালে এলে তাকে আটক করা হয়। কবিরাজ মোফাজ্জল বেপারী সদর উপজেলার গুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হাড় ভাঙা রোগীদের চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।  

পুলিশ, চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের চরপাতানিধি গ্রামের হযরত আলী তালুকদারের ছেলে ও গুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব হোসেনের ১৪ দিন আগে  ভ্যান থেকে পড়ে বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায়। তখন পার্শ্ববর্তী গুড়িপাড়া গ্রামের কবিরাজ মোফাজ্জল বেপারী শিশু সাকিবের চিকিৎসা করেন। তিনি বিভিন্ন লতাপাতা, মুরগির মাংস ও বাঁশের চটি দিয়ে সাকিবের হাত বেঁধে দেন।  

এছাড়া কবিরাজ মোফাজ্জল হাড় ভাঙার কিছু ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে সাকিবকে খাওয়াতে বলেন। কিন্তু এতে সাকিবের হাত ভালো না হয়ে উল্টো হাতে পচন ধরে যায়।  

শনিবার সকাল ১১টার দিকে সাবিকের মা-বাবা কবিরাজ মোফাজ্জলসহ সাকিবকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন শিশু সাকিবের হাতের অবস্থা গুরুতর, হাতে পচন ধরে গেছে। তখন ডা. আকরাম এলাহী বিষয়টি পালং মডেল থানা পুলিশকে ফোনে জানান। দুপুরের দিকে পুলিশ সদর হাসপাতাল থেকে কবিরাজ মোফাজ্জলকে আটক করে।  

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সাকিবকে কোলে করে তার মা লাখি বেগম ডা. আকরাম এলাহীর চেম্বারে বসে আছেন। সাকিব পচন ধরা হাতের যন্ত্রণায় চিৎকার করছে।

এ সময় লাখি বেগম বলেন, কবিরাজ মোফাজ্জল বেপারী বলেছিলেন তার কাছে চিকিৎসা নিলে ছেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে এবং টাকাও কম লাগবে। কবিরাজ আমাদের বাড়ি এসে লতাপাতা, মুরগির মাংস ও বাঁশের চটি দিয়ে আমার ছেলের ভাঙা হাত বেঁধে দেয় এবং হাত ভাঙার কথা বলে ফার্মেসি থেকে কিছু ওষুধ কিনে ছেলেকে খাওয়াতে বলেন। কিন্তু এতে আমার ছেলের হাত ভালো না হয়ে উল্টো খারাপের দিকে যেতে থাকে। এ ব্যাপারে কবিরাজকে জানালে সে বাড়ি এসে হাতের বাঁধন খুলে দেয়। তখন দেখা যায় আমার ছেলের হাতে পচন ধরে গেছে। তখন কবিরাজসহ আমরা সাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার দেখে বলেছে আমার ছেলের হাতের অবস্থা খুবই খারাপ। হাত বাঁচানো যায় কি না সন্দেহ আছে। কবিরাজের ভুল চিকিৎসার কারণে আজকে আমার ছেলের এ অবস্থা। আমি এর বিচার চাই।  

সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হাড় ভাঙা রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। সদর হাসপাতালে যখন আমি আউটডোরে বসি তখন প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ জন রোগী আমার কাছে আসে যারা কবিরাজের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো রোগীর হাত কাটা যায়, কোনো রোগীর পা কাটা যায়। কিন্তু কবিরাজ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। আজকে এই শিশুটির সঙ্গে কবিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে আমি তাকে পুলিশে সোপর্দ করি।  

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন বলেন, কবিরাজ মোফাজ্জল বেপারী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হাড় ভাঙা রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তাই আমরা তাকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

বাংলাদেশ সময়: ২১৫৫, আগস্ট ০৩, ২০১৯
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।