ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন, ১৫ বসতঘর মেঘনায়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০১৯
চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন, ১৫ বসতঘর মেঘনায় ভাঙনকবলিত এলাকা। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মেঘনায় শহররক্ষা বাঁধের ২শ’ মিটার ব্লক ধসে পুরান বাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 

রোববার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ওই এলাকার সেমি পাকা ও টিনের ১৫টি বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে হরিসভা এলাকার ৪টি মন্দির ও চলাচলের সড়ক।

 

হুমকির মুখে থাকা বহু বসতঘর ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

শনিবার (৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে বালু ভর্তি ৫শ’ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো হচ্ছে-হরিসভা এলাকার গুপিনাথ সাহা, আদিনাথ সাহা, সম্ভুনাথ দে, সুশান্ত দে, মানিক সাহা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিমল দে, দ্বীপক দে, ধ্রুবরাজ সাহা, সুনীল দে, শ্যামল দে, ওয়াদে আলী শেখ, অঞ্জু শেখ, আমজাদ আলী মুন্সি ও কার্তিক সাহা।

ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।  ছবি: বাংলানিউজচাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বাংলানিউজকে বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। গত বছরও একই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি রক্ষায় স্পেশাল বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন না করায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বসতিসহ হরিসভা, কালি, স্কন ও লোকনাথ মন্দির মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ৫শ’ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বাংলানিউজকে বলেন, গত কয়েক বছর একই স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। পুরান বাজার এলাকার বাকি অংশ ভাল থাকলেও প্রায় ২শ’ মিটার এলাকায় প্রতিবছর একই সমস্যা হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষণিক জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।  

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০১৯
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।