প্রথমে ফ্রিজিয়ান জাতের দুইটা গাভী পালন শুরু করেন নুর ইসলাম। গাভী দু’টোই সম্পর্কে আপন বোন।
গাবতলী হাটে ঢুকতেই হাতের বামে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় গরু। এর মধ্যে ‘পাগলু’ সবার নজর কেড়েছে। দীর্ঘদেহী ও কুচকুচে কালো রঙা গরুটি দেখে হাতি বলেও ভুল হতে পারে। ‘পাগলু’র পাশেই দেখা যায় আকারে খানিকটা ছোট ‘বাহুবলী’কে। পাগলুর বয়স সাড়ে ৫ বছর ও বাহুবলীর বয়স ৫ বছর।
পাগলুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। মাংস হবে ৩৬ মণ। এখন পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা দাম উঠেছে। বিক্রেতা বলছেন, ১৬ লাখ টাকা দাম উঠলে বিক্রি করা হবে পাগলুকে। অন্যদিকে বাহুবলীর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। বাহুবলীর মাংস হবে ৩০ মণ। তবে এখনো বাহুবলীর দাম কেউ বলেনি। সময় যতো গড়াচ্ছে, এ দুই ‘খালাতো ভাই’কে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে নুর ইসলামের। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, হাটের ২৪ ঘণ্টা বাকি মাত্র। খালাতো ভাইদের বিক্রি করতে পারছি না। দুই ভাইকে প্রতিদিন ১২শ’ টাকার খাবার খাওয়াতে হয়। নিজের জমি জায়গা নাই, ওদের বিক্রি না করতে পারলে মরা ছাড়া গতি নাই।
নুর ইসলাম আরও বলেন, আমি ভাড়া বাসায় থাকি। খালাতো ভাইদের জন্যও গোয়াল ভাড়া লাগে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে ১১শ’ টাকার বিদ্যুৎ ও ৫০০ টাকার পানি খরচ আছে। তাই সামর্থবানদের বলতে চাই, খালাতো ভাইদের কিনে আমার জীবন বাঁচান। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ’
শনিবার (১০ আগস্ট) ঢাকার সবচেয়ে বড় গাবতলীর পশুহাটে হাটে প্রচুর ক্রেতা এসেছেন। তবে সবার চোখ দেশি জাতের মাঝারি গরুতে। হাটে বড় গরুর ক্রেতা কম বলে অভিমত বিক্রেতাদের।
কুষ্টিয়ার কুমারখালির খামারি হাজী আওলাদ হোসেন। তিন দিন আগে হাটে ১৬টি বড় গরু তুলেছেন। আকারভেদে তার গরুর দাম সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।
আওলাদ হোসেন বলেন, বড় গরুর ক্রেতা কম। দামই বলে না কেউ। ৮০০ টাকার (৮ লাখ) গরুর দাম বলে ৩০০ টাকা। এবার কোরবানির ঈদ আমাদের কপালে নাই। গরু বিক্রি করে গ্রামে দেনা পরিশোধ করার কথা। গরু বিক্রি না হলে দেনা পরিশোধ করবো কীভাবে?
বাংলাদেশ: ১৩৫১ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৯
এমআইএস/এইচএ/