তবে উচ্চতার কাছে হার মানলেও বৈশাখী শিক্ষার কাছে হার মানেনি, সব প্রতিকূলতাকে নিত্যসঙ্গী করে প্রবল মনোবল নিয়ে এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ।
বৈশাখী আলহাজ্ব দলিল উদ্দিন গালস হাই স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৩.০৬ পেয়ে বর্তমানে এ করিম আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করছে মানবিক বিভাগ নিয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বোনের মধ্যে ছোট বৈশাখী। আর তার বড় বোন সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। মা অনিতা রানী গৃহিণী আর বাবা বিমল চন্দ্র রায় নিজেও শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে এলাকার একটি সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করে চারজনের সংসার চালান।
অপরদিকে বাবা নিজে শিক্ষিত না হলেও মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চায়। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করে আসে কম্পিউটার চেয়ে।
বিষয়টি নজরে এলে জেলা প্রশাসক খোঁজ খবর নিয়ে বৈশাখীর শিক্ষা কার্যক্রমে বেগবান করার পাশাপাশি কম্পিউটারের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে তাকে কম্পিউটার কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশাখী ও তার মায়ের হাতে কম্পিউটার এবং কালার প্রিন্টার তুলে দেন জেলা প্রশাসক বরিশাল এস এম অজিয়র রহমান।
জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে কিনে দেওয়া এ কম্পিউটার ও কালার প্রিন্টার পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বৈশাখী রায়।
এসময় জেলা প্রশাসক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা যদি এমন মানুষদের পাশে না দাঁড়াই তবে কে দাঁড়াবে। সে হয়তো মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ, কিন্তু তার ইচ্ছা শক্তি খুবই প্রখর। কম্পিউটারটি তার শিক্ষাকার্যক্রমে কাজে আসবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার আব্দুল লতিফ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রফেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ০৩৩৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯
এমএস/এসএইচ