দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির কার্যালয়ে এসে পৌঁছান তারা। বাকী ১৭জন জেলেকে অপর একটি মাছ ধরা ট্রলারে উদ্ধার করে পটুয়াখালীর মহিপুরে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পাথরঘাটায় ফিরে আসা জেলেরা হলেন, এফবি আল-ছত্তার ট্রলারের মাঝি ফাইজুল, মো. সিদ্দিক, আল আমিন, শাহ আলম, ইদ্রিস আলী, মো. পান্না, ইমান আলী, মো. ইদ্রিস মিয়া, নুরুল ইসলাম, হেমায়েত, শাহাদাত ও মো.সাদ্দাম হোসেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গোপসাগরের গঙ্গামতির দক্ষিণে মাছ ধরার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের ইকবালের মালিকানাধীন ট্রলার এফবি আল-ছত্তার ১৮ জেলে নিয়ে এবং এর কিছুক্ষণ পর ১৭ জন জেলেসহ পিরোজপুরের নিমাই বাবুর মালিকানাধীন এফবি পূর্ণিমা ট্রলার ডুবে যায়।
ট্রলার ডুবে যাওয়ার ৯ ঘণ্টা পর রাতে ভাসমান অবস্থায় এফবি অনিমা ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছসহ ডুবে যাওয়া ২৯ জেলেকে উদ্ধার করে রাতেই ১২ জেলেকে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বাকী ১৭ জেলে পটুয়াখালীর একটি ট্রলারে উদ্ধার করে আলীপুরের দিকে রওয়ানা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসে পৌঁছায়।
এদিকে নিখোঁজ হওয়া ৬ জেলের সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ফিরে আসা জেলেরা। ফিরে আসা মাঝি মো. ফাইজুল জানান, ট্রলার ডুবির সময় ৬ জেলে ট্রলারের মধ্যে অবস্থান করছিল। এখন পর্যন্ত সন্ধান না পাওয়ায় তাদের সলিল সমাধি হতে পারে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন, হারুন মিয়ার ছেলে ফায়েদ (২৮) দলিল উদ্দিনের ছেলে মনির (১৭) মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. হানিফা (১৭) সঞ্জয় (৩০), আনোয়ার (৪৬) বাদশাহ (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি পিরোজপুর জেলায় পারেরহাট এলাকার বিভিন্ন এলাকায়।
পাথরঘাটা দক্ষিণ স্টেশন কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার শাহ্ জামাল জানান, ট্রলার ডুবির খবর শুনে চট্টগ্রাম থেকে কোস্টগার্ডের উদ্ধার জাহাজ কামরুজ্জামান উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া দু’টি ট্রলার উদ্ধার হয়নি এবং ৬ জেলেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ওই ৬ জেলে ট্রলারের মধ্যে থাকাদের সলিল সমাধিত হতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
এসএইচ