ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

দখলদারদের কব্জায় বরগুনার পাইকারি সবজি বাজার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০২২
দখলদারদের কব্জায় বরগুনার পাইকারি সবজি বাজার

বরগুনা : বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলের শিকার বরগুনার পাইকারি সবজি বাজার। কারও দোকান দখল, কারও সবজি বিক্রির মাচা।

সংরক্ষণ করে রাখতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির মুখ দেখেন বিক্রেতারা। দিনের সবজি দিনেই বিক্রি করতে বিক্রেতারা বসছেন রাস্তায়। এতে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ জনগণ।

সবজির এ বাজারটি পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সংলগ্ন। প্রতিদিনই পাইকারি বিক্রি হয় এ বাজারে। ভোর হতেই রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্থানীয়-প্রান্তিক চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে আসেন এখানে। হাঁকডাকের মাধ্যমে পাইকারিতে মালামাল বিক্রি হয়। সকাল ৬টা থেকে নয়টা পর্যন্ত বেচা-বিক্রির কারণে বরগুনার প্রধান সড়কে যান চলাচল শ্লথ গতির হয়ে পড়ে। দুই লেনের এক লেন আটকে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ যাত্রীরা পড়েন বিপদে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র পাইকারি সবজি বিক্রির জন্য বাজারটি তৈরি করে দেন। কিন্তু বাজার দখল করে নেয় প্রভাবশালী একটি মহল। তাদের ছত্রছায়ায় বিত্তশালীদের কেউ কেউ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা দিয়েছে। কারও আছে চায়ের দোকান, কেউ কবুতর-পাখি বিক্রি করেন। আছে কাঠের ব্যবসা, অনেকেই আবার ভেড়া পালেন।

রাতের বেলা বাজারের পরিবেশ হয়ে যায় অন্যরকম। অনৈতিক কারবার তো আছেই; চলে মাদক বিক্রিও। এসব কারণে স্থানীয় সবজি বিক্রেতারা তাদের সবজি সংরক্ষণ করতে পারেন না। কোনো সুরাহা না করতে পেতে তারা বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেন। কিন্তু দখলদারদের অপসারণে প্রশাসন থেকেও কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা দখলদারদের জন্য ভোগান্তিতে আছি। এটা এক প্রকার নির্যাতন আমাদের ওপর। তারা সরে না, প্রশাসনও কিছু বলে না। ক্ষতি হয় আমাদের। দিনের সবজি দিনে বিক্রি করতে পারি না। সংরক্ষণেরও উপায় নেই।

এদিকে দখলদারদের দাবি, অন্য কোথায় জায়গা দিয়ে তারা পাইকারি সবজি বাজার ছেড়ে গিয়ে নিজেদের ব্যবসায় পরিচালনা করবেন।

বরগুনা পৌরসভা মেয়র মো. কামরুল আহসান মহারাজ বাংলানিউজকে বলেন, দখলদারদের সরে যেতে জন্য চিঠি দিয়েছি তারপরও তারা যদি সরে না যায়, প্রশাসন দিয়ে উচ্ছেদ করা হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলদারদের উচ্ছেদ করে সবজি ব্যবসায়ীদের কাছে বাজার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ইসমাইল হোসেন নামে পৌর শহরের এক বাসিন্দা বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর পরিকল্পনাতে ঘাটতি থাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ফের যাতে বেদখল না হয় সেজন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময় : ১৮২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০২২
এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa