ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৫ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

সিলেটে সুরমা নদীর ওপর আরেকটি সেতু হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৬, ২০২২
সিলেটে সুরমা নদীর ওপর আরেকটি সেতু হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ অন্যরা।

সিলেট: সিলেটের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে ৭শ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।  নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিলেট বদলে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

 

শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটে প্রায় ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।  

সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। প্রায় ১২ বছর পর এই ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।  

তিনি বলেন, সিলেটে সুরমা নদীর ওপর আরেকটি সেতু হবে। নির্মিতব্য সেতুটি হবে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশেই। কেননা, ঐতিহ্যবাহী ক্বিন ব্রিজ অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এটা রেখে সুরমা নদীর ওপর আরেকটা সেতু করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এই কাজের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। এতে করে নগরের যানজট অনেক কমে আসবে।  

কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ১২ কিলোমিটার সড়কটি চারলেনে উন্নীত হলে ভোলাগঞ্জ থেকে পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো এই জাতীয় মহাসড়কে সহজেই পৌঁছাতে পারবে। এতে সিলেট নগরের যানজট এবং দুর্ঘটনা কমে আসবে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।  

তিনি বলেন, সুরমা নদীর ওপর লোহার কাঠামোর দৃষ্টিনন্দন কিনব্রিজ নির্মাণ করা হয় ব্রিটিশ আমলে। টানা দুই বছর নির্মাণকাজ শেষে ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন অসম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিন নামে এই সেতুর নামকরণ হয় ‘কিনব্রিজ। প্রায় ৯ দশক ধরে সচল সেতুটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদীর ওপর প্রথম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেতুটি ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম দফা সংস্কার করেছিল। এরপর আর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে এই সেতু।  

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কিনব্রিজ ভেঙে এই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে সে সমসয় ঐতিহ্য হিসেবে কিনব্রিজটি না ভাঙার দাবি উঠে। এরপর ঝুলন্ত সেতু প্রকল্পও আটকে যায়।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, কুমারগাঁও-এয়ারপোর্ট সড়ক প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ‘কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ’ প্কল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ অনুমোদন পায়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৬, ২০২২
এনইউ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa