ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

অফবিট

২২ বছর পর মাকে ফিরে পেলেন সন্তানেরা 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১১ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২৩
২২ বছর পর  মাকে ফিরে পেলেন  সন্তানেরা 

পঞ্চগড়: মানসিক ভারসাম্যহীন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা নারী মাজেদা খাতুন। গত ২০০১ সালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।

এরপর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে।  

অনেকে বলেছেন, জিনের আছরে নিখোঁজ হয়েছেন মাজেদা। খুঁজতে খুঁজতে এক সময় তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন মাজেদার চার ছেলে ও চার মেয়ে। ভেবেছিলেন, মারাই গেছেন তাদের মা। অবশেষে এক আত্মীয়ের কাছে খবর পেয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়েছেন সন্তানেরা। আর সেই খবরে ওই নারীকে দেখতে ছুটে এসেছেন পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন।

শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বোদাপাড়া গ্রামে গ্রাম পুলিশ ফজলুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সকাল থেকে গ্রামের নারী-পুরুষ মাজেদাকে এক ঝলক দেখতে ও বিষয়টি জানতে বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) সন্তানরা খবর পান, মাজেদা খাতুন বেঁচে আছেন। তার সন্ধান মিলেছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার শালবাহান ইউনিয়নের হাকিমপুর ইসলামবাগ এলাকায়।  

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মাকে ফিরে পেয়েছেন পঞ্চগড় সদরের সাতমেরা ইউনিয়নের বোদাপাড়া গ্রামের সন্তানরা। বর্তমানে তিনি সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত বড় ছেলে ফজলুলের বাড়িতে রয়েছেন।

মাজেদা খাতুন বোদাপাড়া গ্রামের মৃত বশির উদ্দীনের স্ত্রী। গত ২২ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর বিভিন্ন মাধ্যমে খুজে না পেয়ে মাকে মৃত 

ছেলে ফজলুল হক বাংলানিউজকে বলেন, মা নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খুঁজেও তাকে আর পাইনি। এক সময় ভেবেছিলাম, মা আর বেঁচে নেই। তবে ২২ বছর পর শুক্রবার কাজিপাড়া গ্রামের এক আত্মীয় হাকিমপুর ইসলামবাগ গ্রামে গেলে আমার মাকে দেখে ছোট বোন খতেজা বেগমকে জানান। এরপর আমরা সেখানে গেলে মা আমাকে চিনতে পেরে গলা জড়িয়ে ধরেন। পরে মেম্বারের মাধ্যমে মাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।  

ফজলুলের অন্য দুই ভাই হামিদুল ও ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, এক সময় আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে সব আল্লাহর ইচ্ছা। মাকে ফিরে পেয়েছি। এতদিন মা জিনের আছরেই নিখোঁজ ছিলেন বলে আমরা জানতে পারি।

প্রতিবেশীরা জানান, ২২ বছর পর মাজেদাকে পাওয়া গেছে। এমন ঘটনা এ এলাকায় আগে ঘটেনি।

এদিকে জন্মের পর বাবা-মায়ের কাছে দাদির নিখোঁজ হওয়ার কথা শুনেছেন নাতনি ফারজানা আক্তার। দাদিকে প্রথম দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।  

ফারজানা বাংলানিউজকে বলেন, দাদিকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল, ভাবতাম দাদি আর বেঁচে নেই। তবে আল্লাহ আমার মনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। শুক্রবার রাতে দাদিকে বাড়িতে আনা হলে জীবনে প্রথম দাদিকে দেখি। এতে খুব ভালো লাগছে। দাদি মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও শেষ পর্যন্ত তার পাশেই থাকব।

সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, মাজেদার সন্ধান পাওয়ার পর তার ছেলেরা আমাকে বিষয়টি জানান। এরপর বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে ওই এলাকার ইউনি/যন পরিষদ সদস্য জাহিরুলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মাকে সন্তানদের হাতে তুলে দিই।

এর আগে শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাতে ২২ বছর পর মায়ের মুখ দেখার আনন্দে আত্মহারা হন সন্তানেরা। এ ২২ বছর তেঁতুলিয়ার হাকিমপুর ইসলামবাগ এলাকার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আফাজ উদ্দীন ওরফে দেবারু মাজেদাকে নিজের বাড়িতে রেখে দেখভাল করে আসছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২২
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।