ঢাকা, শনিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

মুক্তমত

মুজিব ছিলেন বেপরোয়া, ব্যস্ত থাকতেন সম্পদ ও নেতা বানানোর কাজে

 মাহবুব মমতাজী | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৫
মুজিব ছিলেন বেপরোয়া, ব্যস্ত থাকতেন সম্পদ ও নেতা বানানোর কাজে  মাহবুব মমতাজী

ঢাকা: নেতা বানানোর মতো স্পর্শকাতর কাজে নিয়োজিত ছিলেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মো. মুজিবুর রহমান। নির্বাচন এলে কে মনোনয়ন পাবেন, আর কে পাবেন না, তা-ও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন বেপরোয়া এই কর্মকর্তা।

 

এসব করে বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে ৪ হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, মিরপুর, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকায় ১০টি প্লট, পূর্বাচলে একটি বাড়ি ও সাভারে আরেকটি জমিসহ টিনশেড বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে লে. জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের এসব স্থাবর সম্পদ ছাড়াও ১৫টি ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের তথ্য মিলেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন মুজিব। দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুজিবুর রহমান সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। মুজিবুর ও তার স্ত্রীর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দুর্নীতি-ঘুষের বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। মুজিবুর রহমান তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের নামে থাকা ঢাকার ২টি ফ্ল্যাট, ১১টি প্লট ও সাভারের বাড়ি ক্রোক করতে আদালতে আবেদন করেছে দুদক। পাশাপাশি তাদের ১৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের জন্য আবেদন করা হয়েছে।  

দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক গত ২৪ মার্চ আদালতে মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের আবেদন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত মুজিবুর রহমান এসএসএফের ডিজি ছিলেন। এরপর তাকে ময়মনসিংহে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি পদে বদলি করা হয়। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর মুজিবুর রহমানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। মুজিবুর রহমান এর আগে সেনা সদর দপ্তরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। দুদক সূত্র জানায়, মুজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যেসব প্লট রয়েছে তার মধ্যে ৭টির মালিক তাসরিন মুজিব। তার নামে এসব প্লট রয়েছে ভাষানটেক বাউনিয়া মৌজায়। তার নামে থাকা সবচেয়ে বড় প্লট সাড়ে ৭ কাঠার। যার মৌজা মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাসরিনের নামে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের জোয়ার সাহারায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভাষানটেক মাটিকাটা এলাকায় মুজিবুর রহমানের নামে ৪ হাজার ৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তিনি এই ফ্ল্যাটের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।  

এ ছাড়া তার নামে মাটিকাটা ও খিলক্ষেত এলাকায় তিনটি প্লট রয়েছে। মুজিবুরের নামে সবচেয়ে বড় সাড়ে ৭ কাঠার প্লট রয়েছে খিলক্ষেত এলাকায়। এর বাইরে পূর্বাচলে তার নামে একটি প্লটসহ বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া সাভারে আছে ৫ শতাংশ জায়গার ওপর জমিসহ টিনশেড বাড়ি।  

বাংলাদেশ সময়: ১০২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।