ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান বারবার আসতে থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেগুনবাগিচাস্থ ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও আলোচনা করেন বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ ও ঢাকা মহানগরের সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন।
খালেকুজ্জামান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ হয়নি। ফলে অতিনিয়ন্ত্রিত স্বৈরাচার থেকে এখন অনিয়ন্ত্রিত স্বেচ্ছাচার চলছে। এখন অনেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছে, কিন্তু ব্যবস্থা বদল না হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে না। অনেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দিয়ে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ঢেকে দিতে চায়। এটি অসম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সাম্যের চেতনা যতদিন বাস্তবায়িত না হবে ততদিন ৯০ ও ২৪-এর মতো গণঅভ্যুত্থান বারে বারে আসবে। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হলো জনযুদ্ধ, যা বাংলাদেশের ভিত্তি। এটির সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না।
খালেকুজ্জামান বলেন, শাপলা চত্বর আর শাহবাগের মতো অহেতুক বিতর্ক সামনে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধকে বাতিল করার পরিকল্পনা হিসেবে সংবিধান থেকে চার মূলনীতি বাতিলের প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। এই চার মূলনীতি আওয়ামী লীগের আবিষ্কার নয়। বরঞ্চ পাকিস্তানি প্রায় ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষায় গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের চেতনা মূর্ত হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর যাবত বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠী এই মূলনীতির বিপরীতে দেশ পরিচালনা করে বাংলাদেশকে চরম বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিপরীতে রাষ্ট্র শাসন করছে। চাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেটের দখলে। ট্রাক সেলের দীর্ঘ লাইন দেখে বোঝা যায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন বিগত ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। মাজার ধ্বংস, নারীর ওপর সহিংসতা, মব সন্ত্রাসে আতঙ্কিত দেশবাসী। দেশকে অস্থিতিশীলতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দরকার। অথচ আজ প্রধান উপদেষ্টার ভাষণেও তার কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই। এতে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট তারিখসহ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে শাসন ভার তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
আরকেআর/আরবি