মৌলভীবাজার: আধুনিক চাষাবাদের একটি বিশেষ পদ্ধতির নাম সমলয়। এর ফলে কৃষিতে যুগান্তকারী উন্নতি সূচিত হয়েছে।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের গ্রাম শ্রীমঙ্গল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো ধানের চারা রোপণের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।
এর আগে সদর উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে চাষাবাদ এলাকায় এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামসুদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম নাগিব মাহফুজ, সমলয় চাষাবাদের দল নেতা কৃষক আবজাল আহমদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামসুদ্দিন আহমদ জানান, কৃষিপ্রণোদনার আওতায় সমলয় চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও খরছ কমানো মূল উদ্দেশ্য। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে এক যোগে মাঠভিত্তিক সব কৃষকের ফসল উৎপাদন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, মানুষ বাড়লেও বাড়ছে না কৃষি জমি। তাই স্বল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করে মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবছর জেলায় সমলয়ে চাষাবাদ দু’টি উপজেলায় হচ্ছে। একটি সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নে এবং অপরটি কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন। গত ৩ জানুয়ারি গিয়াসনগর ইউনিয়নের কৃষকরা ট্রে ও পলিথিনে বীজতলা তৈরি শুরু করছিলেন। সেই বীজের চারা দিয়ে রোপণ করা হচ্ছে সমলয়ে চাষাবাদের ১৫০ বিঘা জমিতে।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উচ্চ ফলনশীল একই জাত ব্যবহার, ট্রে-তে বীজ বপন, কম বয়সের চারা রোপণ, চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার, সুষম সার ব্যবহার, ধান কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ভরা মৌসুমে ধান কর্তনকালে কৃষি শ্রমিকের সংকটের সমাধানে সমলয় চাষাবাদ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, একটি বিশেষ অটোমেটিক কৃষি যন্ত্রের মাধ্যমে ট্রেতে চারা বপন করা হয়। ট্রেতে চারা বপনের যন্ত্রের তিনটি চেম্বর থাকে। প্রথম চেম্বারে ঝুরঝুরে মাটি দেওয়া হয়। মেশিনের মাধ্যমে মাটি সরাসরি পরিমাণমত ট্রেতে পড়ে। দ্বিতীয় চেম্বারে অঙ্কুরিত বীজ দেওয়া হয়। সেই বীজও মেশিনের মাধ্যমে সঠিক পরিমাণে ট্রে-তে পড়ে। সর্বশেষ তৃতীয় চেম্বারে আবার ঝুরঝুরে মাটি দেওয়া হয়। সেই মাটিও মেশিনের মাধ্যমে বীজসহ ট্রেতে পড়ে বীজগুলো ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর ট্রেগুলো জমিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। মাটি যেন শুকিয়ে না যায় সেজন্য পানি স্প্রে করা হয়। শীতে ট্রের চারার যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
চারার উচ্চতা চার ইঞ্চি হলে বা চারার বয়স ২০-২৫ দিন হলে তা জমিতে রোপণ করার উপযোগী হয়। ট্রে-তে চারা উৎপাদনে জমির অপচয়ও কম। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। ফলে ফলনও বাড়বে। রোপণ করায় ধান একসঙ্গে পাকবে ও কৃষকরা তা ঘরেও তুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৩
বিবিবি/এএটি